জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভয়াবহ বিস্ফোরণে উড়ে গেছে ঘরের টিনের চাল ও বেড়া

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণের চিত্র। ছবি : কালবেলা
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণের চিত্র। ছবি : কালবেলা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণে সোহান বেপারি নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারি কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান বেপারি পার্শ্ববর্তী সাতগড়িয়া কান্দি এলাকার দেলোয়ার বেপারির ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। মাঝেমধ্যে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার ভোরে কুদ্দুস বেপারির চাচাতো ভাই সাগর বেপারির সদ্য নির্মিত বসতঘরে হাতবোমা প্রস্তুতের সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরের টিনের চাল ও বেড়া উড়ে গেছে। আর ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারি নিহত হন।

পরে তার মরদেহ কাছাকাছি একটি রসুন ক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই ঘটনায় আরও দুজন মারাত্মকভাবে আহত হলে তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা ও এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত তিন মাস আগে নতুন ঘরটি নির্মাণ করেন কুদ্দুস বেপারির চাচাতো ভাই সাগর বেপারি। ঘরটি নির্মাণে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছিলেন কুদ্দুস বেপারি নিজেই।

তবে বসতঘরটিতে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সেখানে বসবাস শুরু করেননি সাগর বেপারি ও তার পরিবার। ঘটনার পর সাগরের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, আমার স্বামী ভ্যান চালান। মানুষের সহযোগিতায় ঘরটি তৈরি করেছি। ভাবছিলাম কয়েকদিন পর সেখানে উঠবো। ভোররাতে হঠাৎ বোমার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে জানতে পারি আমাদের নতুন ঘরে নাকি বিস্ফোরণ হয়েছে। রাতে সেখানে কে বা কারা ছিল, তা আমরা জানি না। ঘরে কোনো আসবাবপত্র না থাকায় তালা দেওয়া ছিল না।

স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, আগে এই এলাকায় প্রায়ই মারামারি হতো। দুপক্ষের লোকজন দলাদলি করে সংঘর্ষে জড়াত। গত এক বছর ধরে অনেকে জেলহাজতে থাকায় আমরা শান্তিতে ছিলাম। এখন আবার আগের মতো শুরু হয়েছে। আমরা এসব ঝামেলায় জড়াই না। আপনারা এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে দিন।

বিলাসপুরের আরেক বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, প্রথমে মনে হয়েছিল ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ হয়েছে। ঘর খুলে দেখি চারদিকে ধোঁয়া আর কয়েকজন মানুষ দৌড়ে পালাচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড আপস) তানভীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত রবিবার বিলাসপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় এক যুবকের বোমা হামলায় হাতের কবজি উড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চার বালতি ভর্তি ককটেল বোমা উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভুট্টার দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় চাষীরা

মবতন্ত্র রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: যুবদল সভাপতি

পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে সড়ক অবরোধ

বন্ধুদের ঈদে জমানো টাকায় আর্জেন্টিনার পতাকায় সেজেছে গোটা লঞ্চঘাট

যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

অবশেষে পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ১০ জনকে ফেরত নিলো বিএসএফ

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

১১ জেলার সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার মোতায়েন

দেশের বাজারে কত দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি খুব কাছে : ট্রাম্প

১০

দুই ভূমি অফিসে হঠাৎ হাজির প্রতিমন্ত্রী, দেখতে পেলেন নানা অনিয়ম

১১

৪৮ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে ১১ জনকে সরিয়ে নিলো বিএসএফ

১২

বড় ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের

১৩

জাবিতে নতুন দুই উপ-উপাচার্যের যোগদান

১৪

হামে শিশু মৃত্যু / ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

১৫

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালন করল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস

১৬

হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, সেই নারী পুলিশ হেফাজতে

১৭

আরেক দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

১৮

যে কারণে রোগী প্রতিদিন হাসে, কিন্তু আনন্দ পায় না

১৯

ডলারকে আমি চিনি : রামিসার বাবা

২০
X