

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি, নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে যৌথবাহিনী। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যদিও নগরে নিয়মিতভাবেই পুলিশি টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম চলে, তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যৌথবাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার করা হয়েছে। থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনাবাহিনীর টিমগুলো সমন্বিতভাবে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে দায়িত্ব পালন করছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনীর বাড়তি তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। নতুন ব্রিজ চত্বর, কাজির দেউরি, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, মুরাদপুর, টাইগারপাস, দুই নম্বর গেট, অক্সিজেন মোড়, লালখান বাজার, চকবাজার, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, একে খান গেট ও পতেঙ্গা মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসানো হয় অস্থায়ী চেকপোস্ট। এসব পয়েন্টে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।
যৌথ অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা তল্লাশিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের থামিয়ে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর বাড়তি নজরদারি দেখা গেছে। যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, নম্বরপ্লেট ও হেলমেট ব্যবহারের বিষয়টি কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় দায়িত্ব পালনরত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লা আল কামাল বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর নিয়মিত টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা বিশেষ অভিযান নয়, বরং চলমান নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ। নির্বাচনকালীন সময় যেন কোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা অপরাধমূলক তৎপরতা না ঘটে, সে লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। জনগণের সহযোগিতা পেলে এই অভিযান আরও কার্যকর হবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নগরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব অপরাধ যেন আরও বাড়তে না পারে, সেজন্য আগেভাগেই যৌথবাহিনীর মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে মোবাইল টিম বাড়ানোর পাশাপাশি টহল কার্যক্রমও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, যৌথবাহিনীর এই অভিযান সম্পূর্ণ নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা পুলিশ ও সেনাবাহিনী একসঙ্গে কাজ করছি, যাতে নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।
তিনি আরও বলেন, তল্লাশির সময় কাউকে হয়রানি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে লাইসেন্সবিহীন চালক, অবৈধ যানবাহন, সন্দেহজনক ব্যক্তি কিংবা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যৌথ অভিযানের সময় মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও সন্দেহজনক সামগ্রী বহন করা হচ্ছে কি না—সে বিষয়েও সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একাধিক টিম একযোগে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
যৌথবাহিনী ও সিএমপি জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে এই তল্লাশি, টহল ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নগরবাসীকে যে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, যানবাহন বা ঘটনার বিষয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন