

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে যাওয়া এক আসামির নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কৌশলে পালিয়ে গেছেন মো. হৃদয় (২৮) নামে হত্যা মামলার আরেক আসামি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়। কারাগার থেকে পালানো মো. হৃদয় জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি এলাকার মুজিবুর মিয়ার ছেলে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপমহাপরিদশকের পক্ষে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এক হাজতির পরিবর্তে আরেক হাজতিকে ভুল মুক্তি দেওয়ার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকারাগারের কারারক্ষী মো. মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী মো. সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ ও কারারক্ষী রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা কারারক্ষী মো. জাহিদ হাসান ও আইসিটি শাখার কারারক্ষী মো. আবু খায়ের।
গত বৃহস্পতিবার জেলা সুপার ওবায়দুর রহমান বিষয়টি লিখিতভাবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতকে (নবীনগর) অবহিত করেছেন। একই দিন জেলার মনজুরুল আলম সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- পলাতক হাজতি হৃদয় (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের হাজতি দিদার হোসেন (২৮), একই উপজেলার নান্দুরা পূর্বপাড়ার হাজতি বিল্লাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের কয়েদি মো. পলাশ হোসেন (২৫), কসবা কোন্নাবাড়ির কয়েদি আক্তার হোসেন ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজাের সুলতানপুরের হাজতি শিপন মিয়া (৪৫) ও কসবার সোনারগাঁওয়ের হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বাকি দুই সদস্য হলেন- চাঁদপুরের জেলার এবং ফেনীর জেল সুপার।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বলেন, অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে হৃদয় নামে এক আসামি কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেল সুপার ওবায়দুর রহমান বলেন, পালিয়ে যাওয়া হৃদয়কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন