

গণঅধিকার পরিষদের দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ থেকে সরে আসাসহ নানা অভিযোগ তুলে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সদস্য সচিবসহ দলটির শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে মাদারগঞ্জ মডেল থানা সংলগ্ন একটি ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- জামালপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি আল আমিন মন্ডল, মেলান্দহ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব শাহীন আলম, যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল মন্ডল ও মাদারগঞ্জ উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জাকির।
মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম হিরা, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসসি শহীদ আহম্মেদ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল কাইয়ুম, কর্ম ও সমবায় সম্পাদক সুমন শেখ, মেলান্দহ গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া আহম্মেদ পলাশ, মেলান্দহ যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি রিপন মাহমুদসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী। এ তালিকায় প্রবাসী অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জাকির বলেন, বিগত ছয়-সাত বছর ধরে তৃণমূল পর্যায় থেকে শ্রম দিয়ে দলটি গড়ে তুলেছি। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের যে আদর্শ ও রাজনীতি আমরা দেখেছি, দল এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, জামালপুর-৩ আসনে প্রথমে প্রার্থী ঘোষণা করে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে তা পরিবর্তন করা হয়। সারা দেশে ৯৩টি আসনে দল যে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, তা নিয়েও আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন মেনে নিতে পারিনি।
পদত্যাগ করা নেতাদের ভাষ্য, এসব বিষয়ে প্রায় ১৫০ নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে দলীয় সিদ্ধান্তহীনতা ও আদর্শগত দুর্বলতা স্পষ্ট হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েন।
পদত্যাগের অন্য কোনো কারণ আছে কি না এমন প্রশ্নে নেতারা জানান, দলীয় নীতিগত ও আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসাই তাদের পদত্যাগের মূল কারণ। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান তারা।
জামালপুর জেলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা প্রকৃত অর্থে দলকে বুকে ধারণ করেননি। তাদের চলে যাওয়ায় দলের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। সংগঠন আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
মন্তব্য করুন