আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৩, ১১:৩০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

আত্মহত্যা নয়, সেই চিকিৎসককে খুন করেছেন জামাতা-বেয়াই

শ্বশুর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার জীবন হোসেন। ছবি : কালবেলা
শ্বশুর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার জীবন হোসেন। ছবি : কালবেলা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পল্লী চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম (৪২) আত্মহত্যা করেননি। তাকে হত্যা করে মরদেহের গলায় রশি পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এর সঙ্গে জড়িত তার জামাতা ও বেয়াই। ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। এদের মধ্যে মেয়ের জামাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার মাধবপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৫০) ও তার ছেলে জীবন হোসেন (২২)।

নিহত তৌহিদুল ইসলাম (৪২) আলমডাঙ্গা ডম্বলপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের ডম্বলপুর-মাধবপুরে সংযোগ সেতুর পিলারের সঙ্গে সাদা গেঞ্জি দিয়ে মুখ বাঁধা, গলায় লাল রঙের গামছা ও রশি পেঁচানো অবস্থায় কুমার নদীতে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার (১ অক্টোবর) আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলার তিন ঘণ্টার মধ্যে আলমডাঙ্গা থানার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের বরাতে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, নিহত তৌহিদুল ইসলামের মেয়ে তামান্না খাতুনকে দুই মাস আগে পরিবারের অসম্মতিতে পালিয়ে বিয়ে করেন জীবন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জামাতা ও বেয়াইয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন তৌহিদুল। এর জের ধরে তামান্নাকে আসামিরা শারীরিক ও অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তামান্না বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তৌহিদুল ও আসামিদের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে আসামিরা। বাবা-ছেলে করেন হত্যার পরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী তৌহিদুলকে কৌশলে মাধবপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে পেছন থেকে গলায় গামছা ও মুখের ভেতরে সাদা গেঞ্জি ঢুকিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন তারা। হত্যার ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করতে তৌহিদুলের গলায় রশি পেঁচিয়ে সেতুর রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামি জীবন হোসেন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন বিএনপির জন্য

১৪ জেলায় ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনকে যে শর্ত জুড়ে দিল রাশিয়া

জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেলের রজতজয়ন্তী উদযাপিত

পুলিশকে কোপানোর ঘটনায় বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

একা থাকা আর একাকিত্ব অনুভব করা এক বিষয় নয়, বলছে গবেষণা

ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় মিলবে ৮ দিনের ছুটি

‘মৃত্যুর পর জাভেদের সম্মাননা’ প্রত্যাখ্যান করলেন নায়কের স্ত্রী

তৃতীয় বারের মতো সরস্বতী পূজায় নারী পুরোহিত সমাদৃতা

১০

বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রোববার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন

১১

শনিবার ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১২

সুখবর পেলেন বিএনপির আরও ২ নেতা

১৩

সিডনির কাছে বড় হার, ফাইনালে যাওয়া হলো না রিশাদদের

১৪

গ্রেপ্তারের ১০ মিনিট পর হাসপাতালে আসামির মরদেহ ফেলে পালাল পুলিশ

১৫

ভারতে না এলে ক্ষতিটা বাংলাদেশেরই, দাবি সাবেক ভারতীয় অধিনায়কের

১৬

বিপিএলে টস জিতে বোলিংয়ে চট্টগ্রাম

১৭

এই ৪ অভ্যাসে বাড়বে আপনার সন্তানের বুদ্ধি

১৮

কারাগারে দুই খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন

১৯

জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে

২০
X