সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩, ০৪:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে নারী ও শিশু হত্যায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

নারী ও শিশু হত্যা মামলার আসামি। ছবি : কালবেলা
নারী ও শিশু হত্যা মামলার আসামি। ছবি : কালবেলা

সিরাজগঞ্জে শিউলি খাতুন নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যার দায়ে তার সৎ ভাই ও প্রাক্তন প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপরদিকে শিশুসন্তানকে হত্যার দায়ে সৎ বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন পৃথক আদালত। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২০ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এরফান উল্লাহ এসব দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁতি গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন, নাটোরের ক্ষিরপোতা গ্রামের হাসান তালুকদারের ছেলে মাসুদ ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম। এর মধ্যে মনিরুল উপস্থিত থাকলেও সাদ্দাম ও মাসুদ পলাতক রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ব্রাহ্মণগাতি গ্রামের হাসান তালুকদারের প্রথমপক্ষের ছেলে মাসুদ ওরফে নূরনবী ও দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান ভিকটিম শিউলি। মাসুদকে সঠিকভাবে লালন-পালন না করায় বাবা ও সৎ বোনের ওপর তার ক্ষোভ ছিল। অপরদিকে শিউলিকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল তার প্রেমিক সাদ্দাম। এ অবস্থায় সাদ্দাম হোসেন ও মাসুদ দুজনেই ক্ষোভের বসে শিউলিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১০ সালের ২০ নভেম্বর শিউলি বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। পরদিন পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর বিল থেকে পুলিশ শিউলির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হাসান তালুকদার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন মামলার আসামি মাসুদ ওরফে নূরনবী ও সাদ্দাম। আসামিরা অনুপস্থিত থাকায় তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন স্টেট ডিফেন্সের ল’ইয়ার গোলাম হায়দার। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক মঙ্গলবার এ রায় দেন।

অপরদিকে বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামের সাহিদা খাতুন প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শিশু সন্তানসহ গোপালপুর গ্রামের মনিরুলকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই মনিরুলের চক্ষশূলে পরিণত হয় শাহিদার প্রথম পক্ষের সাত বছরের শিশুসন্তান শাহাদৎ হোসেন। এ অবস্থায় ২০১৯ সালের ১৯ মে বিকেলে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে শিশু শাহাদৎকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মনিরুল। ছয়দিন পর শাহজাদপুর উপজেলার করতোয়া নদীর চরে অর্ধগলিত অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শাহিদা খাতুন বাদী হয়ে মনিরুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক আসামির উপস্থিতিতে মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রামিসা হত্যা মামলার রায় পর্যবেক্ষণে যা বললেন আদালত

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা / চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি শহরে ইসরায়েলি হামলা

মৃত মাকে দেখতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল মেয়ের

খাদ্য প্যাকেটের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তা বাড়াবে ভোক্তা সচেতনতা, কমাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চরিত্র হনন: এক নীরব ঘাতক

সব ডেথ রেফারেন্সই দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন: আইনমন্ত্রী

ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিতে সতর্ক পেন্টাগন

উত্তাপহীন বিসিবি নির্বাচনে ৩৫ মিনিটে পড়েছে ১ ভোট

ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কের বিরুদ্ধে

১০

অঝোরে কাঁদছিলেন রামিসার বাবা, চোখ বন্ধ রেখেছিলেন স্বপ্না

১১

ভিসা ছাড়াই যে ৩৬ দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

১২

রামিসা হত্যা মামলা / রায়ের সময় কাঠগড়ায় দোয়া পড়ছিলেন সোহেল

১৩

সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী

১৪

৫ কার্যদিবসে মামলার রায় একটি ‘মাইলফলক’: রাষ্ট্রপক্ষ

১৫

দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ হাজি

১৬

দক্ষিণ লেবাননে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত

১৭

চার বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

১৮

রামিসা হত্যা মামলা / ৩ মাসের মধ্যে এ বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব : আইনমন্ত্রী

১৯

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা : প্রধানমন্ত্রী

২০
X