শরিফুল ইসলাম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নবান্ন উৎসবে মেতেছে ঘিওরের কিষান-কিষানিরা

ঘিওরের কোশুন্ডা গ্রামের মাঠে ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত কিষান-কিষানিরা। ছবি : কালবেলা
ঘিওরের কোশুন্ডা গ্রামের মাঠে ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত কিষান-কিষানিরা। ছবি : কালবেলা

নবান্ন হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি পিঠা, পায়েস, ক্ষীরসহ নানা রকম খাবারে মুখরিত হয়ে ওঠে বাঙালির প্রতিটি ঘর। নতুন ধানের পিঠা-পায়েসের ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। নতুন ধান ঘরে আসার পর শুরু হয় চালের তৈরি পিঠাপুলি খাওয়ার নবান্ন উৎসব।

মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাঠে মাঠে সোনালি ধান কাটার ধুম পড়েছে। নবান্ন উৎসবে মেতেছে কৃষক। কৃষানিরা ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জমিতে শস্যবিন্যাস সজ্জিতকরণ ও নতুন জাতের ধান আবাদের ফলে শস্যের নিবিড়তা ও ফলন বেড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কোশুন্ডা গ্রামে দেখা যায়, মাঠের এক কোনায় ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছেন কয়েকজন কিষান-কিষানি। পাশেই ফসলের ক্ষেত। নবান্নের আনন্দে আমন ও বোরো ধান কাটার ধুম লেগেছে।

উপজেলার বানিয়াজুরী, বালিয়াখোড়া, সিংজুরী, নালী, বড়টিয়া, পয়লা, ঘিওর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাঠে চলছে ধান কাটা ও মাড়াই। বাড়ির উঠানে নতুন ধানের স্তুপ।

কৃষকরা জানান, সাধারণত হেমন্তের এই সময় তাদের আমন ধান ঘরে তোলার কথা। কিন্তু চলতি বছর বর্ষার পানি স্বল্প পরিমাণে আসে, যা খুবই ক্ষণস্থায়ী থাকে। অনেক এলাকার ফসলের মাঠে তা প্রবেশও করেনি। ফলে স্থানীয় কৃষকরা অধিক ফলনের হিসাব-নিকাশে এবার আমনের চেয়ে একটু বেশিই রোপণ করেছিলেন ইরি বোরো।

কোশুন্ডা গ্রামের কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, ‘এবার ৩৩ শতাংশ জমিতে আমনের আবাদ করেছি। বর্ষার পানি বেশি দিন খেতে না থাকায় ফলন তেমন ভালো হয়নি। এ ছাড়াও শ্রমিকের দাম বেশি, তাই ধান কাটা-মাড়াই কিছুটা ধীরে হচ্ছে।’

কাশিমপুর গ্রামের কিষানি সাজেদা বেগম বলেন, বাড়ির সবাই মিলে কাজ করে নতুন ধান ঘরে তুলছি। এখন রোদে শুকাচ্ছি। শুকানোর পর ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করে রাখব। দিন পনের পর মেয়ে ও জামাইসহ আত্মীয়স্বজনকে নিমন্ত্রণ করে নতুন চালের পিঠা খাওয়াব।

উপজেলার প্রাকৃতিক কৃষিকেন্দ্রের পরিচালক দেলোয়ার জাহান বলেন, সমৃদ্ধির ঋতু হেমন্ত যখন আসে তখন ফসল তোলায় বঙ্গজননী তার দ্বার খুলে দেয়। তবে যারা এত পরিশ্রম করেন, সেই কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পেলে সার্থক হবে বাংলার নবান্ন।

বালিয়াখোড়া ইউপি সদস্য মো. রতন মিয়া বলেন, নতুন ধান নিয়ে কৃষকের যেমন ব্যস্ততা, তেমনি আনন্দও। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি। অনেকের বাড়িতে চলছে পিঠা-পায়েস খাবারের প্রস্তুতি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এবার উফশী ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন এবং ৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছর ধানের বোরো ৮৮/৮৯/৯২/১০০ নতুন জাতের আবাদ করা হয়েছে। শস্যবিন্যাস সজ্জিতকরণের ফলে বর্তমানে শস্যের নিবিড়তা ও ফলন বেড়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টি হতে পারে দেশের যেসব স্থানে

ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

বাবা হচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী ব্রাজিল তারকা এনদ্রিক

এবার পশ্চিম তীরে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ছাত্রদলের দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা

‘জীবনে আর কোনোদিন মাদক ব্যবসা করব না’

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলি

জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমরাও মানুষ: ডা. শফিকুর রহমান

দেশের প্রথম মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘বৈদেশ’

সাংহাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিলেন আব্বাস আরাঘচি

১০

জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা: কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষক বদলি

১১

পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি: স্পিকার

১২

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর পাল্টা হামলা, নিহত ১

১৩

ইয়ামালের বাবা হওয়া নিয়ে প্রচারিত ছবিটি এআই জেনারেটেড: রিউমর স্ক্যানার

১৪

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলার কমিটি ঘোষণা

১৫

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেটিং সন্দেহ, তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

১৬

মারা গেলেন দুবারের সাবেক মেয়র

১৭

এক ইলিশ ৬ হাজার ৮২৫ টাকায় বিক্রি

১৮

কমছে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি 

১৯

সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার

২০
X