মিঠু দাস জয়, সিলেট
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:০৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ
একান্ত সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘নূরকে নিয়ে কানাডা সরকার লুকোচুরি করছে’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি : কালবেলা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি : কালবেলা

বঙ্গবন্ধুর খুনি এস এইচ এম বি নূর চৌধুরীকে নিয়ে কানাডা সরকার লুকোচুরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। শনিবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীর পাড়স্থ নিজ বাসভবন হাফিজ কমপ্লেক্সে কালবেলার সঙ্গে একান্তে আলাপচারিতায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, নূর চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি। তিনি বলেছেন, ‘তিনি বঙ্গবন্ধুকে মেরেছেন’। এরপরই তিনি কানাডায় গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী স্বদেশে আসার পরে খুনিদের বিচার হবে, সেই ইনডেমনিটি যখন বাতিল হয়, তখন খুনিরা আগেভাগেই কানাডায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। কানাডা সরকারের সাথে এ নিয়ে আমরা অনেকবার দেন-দরবার করেছি। আমরা কানাডা সররকারকে বলেছি যে, আপনার দেশ আইনের শাসনের দেশ, সুশাসনের দেশ। আমরা আমাদের দেশে আইনের দেশ তৈরি করতে চাই। রোল অব ল আমাদের দেশে করতে চাই। আপনারা প্রায়ই চিৎকার দেন, আমাদের দেশে সুশাসন, রোল অব ল কম। আমরা সব খুনিকে, যারা পলাতক, তাদের দেশে এনে আইনের সম্মুখীন করতে চাই। কানাডা সরকার সেটা শুনে, কিন্তু এই খুনিকে তারা নানা অজুহাতে আমাদের দেশে পাঠায় না। ওনারা বলে যে, এই খুনির বিচার হয়েছে, বিচারে তার শাস্তি হয়েছে, আমাদের দেশে তাকে ফাঁসি দেওয়া হবে।

কানাডা সরকার বলে যে, মানুষের মৃত্যুদণ্ডের বিচারে আমরা খুশি না। আমরা চাই না কোনো লোকের মৃত্যুদণ্ড হোক। আমরা বললাম যে, এই লোক তো বাঙালি, বাংলাদেশি নাগরিক, আপনার দেশের নাগরিক না। সুতরাং তাকে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেন। তারা বলেন, ‘না, আপনার দেশে গেলে বিচারের সম্মুখীন হবে, এটা আমাদের আইনে মানে না ‘আমরা তখন জিজ্ঞেস করলাম, ওই লোকের স্ট্যাটাসটা কি? ওনারা বলেন না। লুকিয়ে রাখেন। লুকোচুরি খেলেন। আমরা তাই, কানাডিয়ান কোর্টে ‍উকিল নিয়োগ করলাম, কোর্টে আমরা কেইস করলাম যে, আমরা জানতে চাই, এই নূর চৌধুরী কি কানাডিয়ান নাগরিক না বাংলাদেশি নাগরিক। কানাডিয়ান সরকার, কানাডিয়ান কোর্ট রায় দিল, সে নাগরিক না, সে এখানে অবৈধভাবে আছে, সেটা কানাডিয়ান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে জানাতে পারেন। কিন্তু এরপরও কানাডিয়ান সরকার এই লুকোচুরিতে আছে। সে কি বৈধ নাকি কানাডিয়ান আশ্রয় পেয়েছে সেইটা আমরা জানি না। আমরা কানাডিয়ান সরকারকে বললাম যে, ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়স্বজন দিনে দিনে দুঃখ পাচ্ছে, আর খুনি নূর চৌধুরী তো দিব্যি শান্তিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তোমরা একে প্রতি মাসে টাকাও দিচ্ছ, তোমাদের দেশে থাকার জন্য সে বাড়িতে আছে, দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সিনেমা দেখতেছে। তোমরা আমাদের দেশের না পাঠাও, তাহলে তোমাদের দেশের জেলে রাখো। তারা কোনো উত্তর দেন না। আমরা অনেকবার তাদের বলেছি। কিন্তু তারা কিছুই বলে না। একটা না একটা অজুহাত তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বলি যে দেখো, তোমরা এমন খুনিগুলোকে আশ্রয় দিলে, কানাডা একটি খুনিদের কেন্দ্রে পরিণত হবে। দুনিয়ার যত খুনিরা সব তোমাদের দেশে গিয়ে আশ্রয় নিবে। সুতারাং তোমরা পৃথিবীর সব দেশের জন্য একটি অনিষ্টের কারণ হবে। তোমরা তাকে যদি ফাঁসি না দেও, তাইলে জেলে রাখো। সেইটাও করে না।

প্রবাসীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কানাডায় বাঙালি প্রবাসী যারা আছেন, আমি তাদের অনুরোধ করেছিলাম যে আপনারা, প্রবাসী বাঙালি যারা, এই আত্মস্বীকৃত খুনি নূর, সে যে বাড়িতে থাকে, যেসব এলাকায় সে ঘুরে বেড়ায়, আপনার সেইখানে অন্তত পক্ষে মাসে একবার গিয়ে প্রতিবাদ করেন, প্ল্যাকার্ড দেখান যে, এইখানে খুনি থাকে। ওইখানকার কানাডাবাসীকে বলেন, আপনাদের বাড়ির পাশে একজন আত্মস্বীকৃত খুনি থাকে। একে আপনারা আপনার এলাকা থেকে বের করে দেন, কিন্তু এইগুলো হয় না।

সিভিসি রিপোর্টারের ভিডিও দেখে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে, একজন লোক একটা ভিডিও তৈরি করেছে। এ রকম আরও আরও ভিডিও হওয়া উচিত । বঙ্গবন্ধুর খুনি এখনো ৫টি পলাতক আছে। একটি কানাডায়, একটা আমেরিকায়, বাকি ৩টা জানি না। আমি সব প্রবাসী ভাইবোনদেরও বলেছি, আপনারা যদি বাকি খুনিদেরও তথ্য দিতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনাদের আমরা পুরস্কৃত করব।’

প্রবাসীদের উদ্দেশে একজন খুনিকে ধরিয়ে দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটি খুনি বোস্টনের সামার বিলে ছিল। সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি লোকদের মারতে সাহায্য করে। ইহুদি লোকদের সে বলে, এই যে গ্যাস চেম্বার এইগুলো মিথ্যা-বানোয়াট। তারপরেও তার বাড়ির সামনে প্রায় সপ্তাহেই মিডিয়াসহ যারা ইহুদি স্বপক্ষের লোক, তারা বিচারের সম্মুখীন করার জন্য ওই লোকের বাড়ির সামনের গিয়ে প্রতিবাদ করত । সে লোক পরে আমেরিকান নাগরিক হয়েছিল। আমেরিকান সরকার ওই নাগরিককে যিনি ওই জুইস হ্যালোকাস্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাকে ইসরায়েলে পাঠাইয়া দেয়। আমরা আশা করি, কানাডিয়ান সরকার এই খুনিকে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দিবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর খুনের সঙ্গে জড়িত এই এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ১৯৫০ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এম এ নূর। তাকে নিয়ে বিশদ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করতে যাচ্ছে কানাডিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিবিসি। যে প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো আত্মগোপনে থাকা নূর চৌধুরীর দেখা মিলবে। জানা যাবে, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার ভাষ্যও। এর আগেই সম্প্রতি ওই প্রতিবেদনের একটি খণ্ডিত একটি ভিডিওতে তাকে দেখা যায়। এরপর থেকেই আবারও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। জনগণ জানতে চায়, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফেরানোর কি উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা কলেজে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের গরু ভোজের আয়োজন 

জাতীয় এআই নীতি প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ: সাংহাইয়ে আইসিটি মন্ত্রী

নেতানিয়াহু ‘যুদ্ধাপরাধী’, তার স্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে: মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় নিহতের সংখ্যা কত, জানাল ইরান

জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান শিক্ষক সম্মেলন: বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন প্রত্যয়

শেষ ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই উপসর্গে ২ ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

তারেক রহমানের সঙ্গে রংপুর বিভাগের বিএনপি নেতাদের বৈঠক  

গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে: শফিকুর রহমান

দীর্ঘমেয়াদে চসিক মেয়র পদে থাকতে চান না শাহাদাত হোসেন

১০

ইরানি জাতি আগের চেয়ে এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ: বাঘায়ি

১১

বরযাত্রী ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত ২, আইসিইউতে কনে, হাত ভাঙল বরের

১২

আগস্টে ‘প্রবাসী কার্ড’র পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করবে সরকার

১৩

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্থগিত করল ইরান

১৪

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমির প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করব: আরাগচি

১৫

৬৫ বছর বয়সের পর যে ১০ খাবার এড়িয়ে চলবেন

১৬

‘বিএনপি সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, কিন্তু...’

১৭

বিশ্বকাপে ফাইনালের পারফরম্যান্স নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাল ফিফা

১৮

মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

১৯

সিএনএন-এর বিশ্লেষণ / সমঝোতা চুক্তি ঘিরে ইরানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, অভ্যুত্থানের অভিযোগ কট্টরপন্থিদের

২০
X