মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘কুমড়ো বড়ি’ যেভাবে তৈরি করেন গ্রামের নারীরা

ঝিনাইদহের মহেশপুরে একটি গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত নারীরা। ছবি : কালবেলা
ঝিনাইদহের মহেশপুরে একটি গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত নারীরা। ছবি : কালবেলা

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রাামে কুমড়ো বড়ি তৈরির যেন উৎসব চলছে। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে মাচা করে সেখানে শুকানো হচ্ছে বড়ি। স্বাদে ও মান ভালো হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এখানকার বড়ির চাহিদা। বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হওয়ায় অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বড়ি তৈরি করছেন নারীরা।

মাষকলাই ভিজিয়ে সেই ডালের সঙ্গে পাকা চালকুমড়ো মিশিয়ে তৈরি করা হয় এ সুস্বাদু বড়ি। শীতের সময় গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ নারী পালা করে বড়ি তৈরি করার কাজটি করে থাকেন। কুমড়ো বড়ি তরকারির একটি মুখরোচক খাদ্য। এতে তরকারির স্বাদে যোগ হয় নতুন মাত্রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার নারীরা এই বড়ি তৈরি করার জন্য বেশ কয়েক মাস আগে থেকে চাহিদামতো পাকা চালকুমড়ো সংগ্রহ শুরু করেন। কুমড়ো বড়ি তৈরিতে মূলত চালকুমড়া এবং মাষকলাইয়ের ডাল প্রয়োজন হয়। মাষকলাইয়ের ডাল ছাড়া অন্য ডালেও তৈরি করা যায় এই বড়ি। মচমচে করে রোদে শুকাতে পারলে এই বড়ির ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।

এ সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে কমবেশি কুমড়ো বড়ি তৈরি করা হয়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বাজারে বিক্রি করেন তারা। শীতের সময় কুমড়ো বড়ির চাহিদা থাকে বেশি। গ্রামাঞ্চলের নারীরা বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়ো বড়ি তৈরি করেন।

বড়ি তৈরি করা পাতিবিলা গ্রামের হাজেরা বেগম জানান, বড়ি তৈরির আগের দিন ডাল ভিজিয়ে রাখতে হয়। চালকুমড়া ছিলে ভেতরের নরম অংশ ফেলে মিহিভাবে কুচি করে রাখতে হয়। এরপর কুমড়ো খুব ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে বেঁধে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হয়। অন্যদিকে ডালের পানি ছেঁকে শিলপাটায় বেটে নিতে হয়।

এরপর বাটা ডালের সঙ্গে কুমড়ো মেশাতে হয়। যতক্ষণ না ডাল-কুমড়োর মিশ্রণ হালকা হয়, ততক্ষণ খুব ভালো করে হাত দিয়ে এ মিশ্রণ মিশাতে হয়। এরপর কড়া রোদে চাটি বা কাপড় বিছিয়ে বড়ির ছোট ছোট আকার দিয়ে একটু ফাঁকা ফাঁকা করে বসিয়ে শুকাতে হয়। এভাবে বড়ি তিন থেকে চার দিন রোদে শুকিয়ে অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

বগা গ্রামের ফাতেমা বেগম বলেন, শীতের সময় মূলত বড়ি তৈরি করা হয়। এ বড়ি নিজেদের খাওয়াসহ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও পাঠানো হয়।

উপজেলার কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, এখানকার কুমড়ো বড়ি খুব সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকায় এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী জানান, শীত মৌসুমে গ্রামের নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন। গ্রামীণ নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন রেকর্ড গড়ে স্বর্ণের ভরি আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল 

মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ : জামায়াত আমির

স্বামীর নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামলেন নাসরিন আউয়াল মিন্টু

শহীদ ওয়াসিম স্মৃতি সংসদ ঢাকা কলেজের সদস্য সংগ্রহ সপ্তাহ শুরু

অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন? এখনই যে কাজ না করলে বিপদ

বিস্কুটে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে কেন? অবাক করা কারণ জেনে নিন

সারা দেশে বহিষ্কার করা নেতাকর্মীদের তথ্য জানাল বিএনপি

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ভারতে

আইসিসির বোর্ড সভায় একটি দেশ পক্ষে ছিল বাংলাদেশের! 

তারেক রহমানের জনসভায় নাশকতার শঙ্কা নেই : এসএমপি কমিশনার

১০

সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান

১১

আরও শক্তি বাড়াল মোস্তাফিজের সাবেক দল

১২

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার

১৩

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিচ্ছে পাকিস্তান

১৪

সিলেটের পথে তারেক রহমান

১৫

সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান উপদেষ্টা ফরিদার

১৬

প্রিয়াঙ্কার স্মৃতিচারণ

১৭

সুশান্তের জন্মদিনে বোনের খোলা চিঠি

১৮

পরিচয় মিলল সেই গলাকাটা যুবকের

১৯

ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি নেই, বিবৃতিতে আরও যা জানাল আইসিসি

২০
X