মৌলভীবাজার জেলার ক্যারেশমেটিক রাজনীতিবিদ এখন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। একের পর এক বাজিমাত। দল মত নির্বিশেষে সবার কাছে আস্তা ভাজন হয়ে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন জননেতা। জিল্লুর রহমানের মনোনয়ন পাওয়ার পর পরই মৌলভীবাজারে আনন্দের জোয়ার বয়। দল মত নির্বিশেষে এখন মানুষ তার পক্ষে কাজ করছেন।
পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজার-৩ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। খুব অল্প সময়ের মধ্যে যিনি আপামর জনসাধারণের মন জয় করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন, মানুষকেও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তিনি এমন সব উন্নয়ন কাজের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছেন, যা আগে কেউ বলেনি। এ যেন অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্যারেশমেটিক নেতা।
প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে মৌলভীবাজার জেলায় চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি। সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী ও সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুর রহমানের পরিবারও সমর্থন জানাচ্ছেন জিল্লুর রহমানকে। বিরুদ্ধে দলের নেতারাও গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে কাজ করছেন তার জন্য। এখন তিনি হয়ে উঠেছেন মৌলভীবাজারের সর্বমহলের প্রিয় প্রার্থী।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পরই জিল্লুর রহমান মনস্থির করেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের মানুষের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি উন্নয়ন করবেন। তাই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ও রাজনগর উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিজের টিম পাঠিয়ে মানুষের কথা শুনেছেন জিল্লুর রহমান। তৈরি করেছেন উন্নয়ন পরিকল্পনা। এখন যে ইউনিয়ন-ওয়ার্ডেই যান সেখানেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী সভা শুরু করেন। এ যেন চাওয়ার আগেই পাওয়া। মানুষের দাবির আগেই তিনি বলে দেন কোন ওয়ার্ডে কী কী প্রয়োজন। এমন প্রতিশ্রুতিতে আশান্বিত হয়ে মৌলভীবাজার-৩ আসনে আনন্দের জোয়ার বইছে। সর্বস্থরের মানুষ দল মত নির্বিশেষে এখন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের জন্য কাজ করছেন।
গত ৪ জানুয়ারি বিকেলে মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনা চত্বরে জনসভায় তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো প্রকাশ করেন। এ সময় জিল্লুর রহমানের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি শুনে তাকে হাত তুলে স্বাগত জানান জনসভায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার জনতা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে জিল্লুর রহমান এখন পর্যন্ত তার নির্বাচনী আসনের ৯৮ শতাংশ এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও জনসভা করেছেন। দীর্ঘদিন পর একজন পরিচ্ছন্ন মানুষকে প্রার্থী দেখে আনন্দে জোয়ার বইছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও।
প্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর পরিবারের মধ্যে স্ত্রী সাবেক এমপি সৈয়দা সায়রা মহসীন, মেয়ে যুবলীগ নেত্রী সৈয়দা সানজিদা শারমিন, সৈয়দ নওশের আলী খোকন, সৈয়দ লিয়াকত আলীসহ সমর্থক ও কর্মীরা একযুগে কাজ করছেন জিল্লুর রহমানের জন্য।
একইসঙ্গে মাঠে প্রচার চালিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের পরিবারও। তার পরিবারের মধ্যে ভাই মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন, ভাতিজা যুবলীগের সাবেক সভাপতি নাহিদ আহমদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৌদ আল সুফিয়ান সাগরসহ অনেকে। বর্তমান সংসদ সদস্য নেছার আহমেদের রাজনৈতিক নেতা ছিলেন আজিজুর রহমান। কিন্তু এবার তিনি মনোনয়ন না পাওয়ার আজিজুর রহমানের পরিবার নৌকার প্রার্থীকেও সমর্থন জানাচ্ছে।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, আমার স্বামী প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী এ আসনের এমপি ছিলেন। কিন্তু উনি ওনার দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। জিল্লুর রহমানকে মহসিন আলী ছেলের মতো দেখতেন। আমরা চাই আমাদের কৃতি সন্তান জিল্লুর রহমান এমপি হয়ে মহসিন আলীর অসম্পূর্ণ সব কাজ সম্পন্ন করবেন। তাই এখন প্রয়োজন আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জিল্লুর রহমানকে সংসদে পাঠানো।
মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। আমরা চাই মৌলভীবাজারের উন্নয়ন হোক। তাই আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সুসংগঠিত করে তাদেরও উন্নয়নের অংশীজন করতে চাই। নৌকার জয় এখন নিশ্চিত।
মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার বলেন, আমাদের নেত্রী বুঝে শুনে যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান একজন তরুণ, তিনি চাইলে সকল অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবেন। তাই আমি মৌলভীবাজার ও রাজনগরবাসীর কাছে আহ্বান জানাই তারা যেন জিল্লুর রহমানকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠায়।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক তরফদার ভিপি সুয়েব বলেন, আমাদের এ আসন শেখ হাসিনা যাকে মনোনীত করেছেন তার জন্যই কাজ করব। কখনো নৌকার বিরুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ নেই। ৭ তারিখ বিপুল ভোটে নেত্রীকে আমরা এ আসন উপহার দেব।
ইতোমধ্যে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলভীবাজার ও রাজনগরের আন্তঃমহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজার শহর বাইপাস ও নতুন মনু সেতু, কাউয়াদিঘি হাওরের উন্নয়ন, মনু নদীর ভাঙন থেকে রক্ষাসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব প্রতিশ্রুতি পেয়ে খুশি ভোটাররাও।
স্থানীয় ভোটার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি বিশ্বাস করি জিল্লুর রহমান উন্নয়ন করতে পারবেন। ওনার বক্তব্য আমার খুব ভালো লাগে। ওনি কাউকে কটাক্ষ করেন না। বরং সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের কথা বলেন। তাই আমি ওনাকে সমর্থন জানাই। দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ এখন জিল্লুর রহমানের সঙ্গে আছেন।
মৌলভীবাজার- ৩ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের একটা টিম গত তিন মাস মৌলভীবাজার ও রাজনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে খোঁজ নিয়েছে কার কী লাগবে। আমরা সেইভাবেই উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজিয়েছি। মৌলভীবাজার-৩ আসনকে দেশের অন্যতম স্মার্ট এলাকা হিসেবে গড়তে চাই।
তিনি বলেন, আমি একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সেই লক্ষ্যেই কাজ করব। উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমি কোনো দলমত দেখব না। আমার একটা অফিস থাকবে সেখানে সবশ্রেণির মানুষ নির্দ্বিধায় যেতে পারবে। আর মানুষ যেটা চাইবে তাদের চাওয়াকে মূল্যায়ন করে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে কাজ করব।
মন্তব্য করুন