নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী ও পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের গাড়ি ও তার লোকজনের ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে কম্বল বিতরণের আয়োজন করেন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টার। একই সময় ইউনিয়ন পরিষদের গেটের সামনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নির্বাচনী-পরবর্তী আলোচনা সভার আয়োজন করেন গোলাম দস্তগীর গাজীর সমর্থিত স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। একই জায়গায় পাশাপাশি দুটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের লোকজন জমায়েত হতে থাকে এবং তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর দেড়টার দিকে দুপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হন অন্তত ২০ জন।
দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টার বলেন, ‘এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে এখানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামধারী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গেট ভেঙে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।’
দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী-পরবর্তী আলোচনা সভার আয়োজন করি। সেখানে নেতাকর্মীরা বসে ছিলেন। এ সময় নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টারসহ তার লোকজন আওয়ামী অতর্কিত হামলা চালায়।’
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপঙ্কর চন্দ্র সাহা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মন্তব্য করুন