আরিফিন তুষার, বরিশাল
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বছরের প্রথম ১৮ দিনে এক বিভাগেই ১০ শিশুর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

বরিশাল বিভাগে বছরের প্রথম মাসের ১৮ দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঠান্ডাজনিত রোগে এসব শিশু মারা যায়। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ঠান্ডার কারণে বাড়ছে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী। এদের মধ্যে শিশুদের অবস্থা অল্পতেই নাজুক হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ঠান্ডাজনিত রোগে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ভোলা সদর হাসপাতালে ও ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন স্থানে অন্য শিশুরা মারা যায়।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে দেড় শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি আছে। আর বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন চার শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে সিংহভাগ শিশু।

এ ছাড়া আরও জানানো হয়েছে, ১২ জানুয়ারি শিশু ওয়ার্ডে ৩১ শিশু ভর্তি হয়েছিল, একজনের মৃত্যু হয়। ১৩ জানুয়ারি ভর্তি হয়েছিল ৩০ শিশু, মারা যায় এক শিশু। ১৪ জানুয়ারি ৩১ শিশু ভর্তি হয়েছিল, মারা গিয়েছিল এক শিশু। ১৫ জানুয়ারি ৩০ শিশু ভর্তি হয়েছিল। ১৬ জানুয়ারি ৩১ শিশু ভর্তি হয়েছিল, মারা গিয়েছিল এক শিশু। ১৭ জানুয়ারি ৩০ শিশু ভর্তি হয়, মারা গেছে এক শিশু। ১২ জানুয়ারির আগে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে শেবাচিম হাসপাতালে দেখা গেছে, মেডিসিন ও শিশুসহ সব ওয়ার্ড রোগীতে পরিপূর্ণ। শয্যা না পেয়ে অধিকাংশ রোগী মেঝেতে বিছানা পেতে নিয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি। জ্বর-সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

হাসপাতালে ভর্তি শিশু রাফসানের মা ইয়াসমিন পারভীন বলেন, আমার সন্তানের বয়স আড়াই বছর। হঠাৎ করে তিন দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্ট হতে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নিউমোনিয়া আক্রান্ত। অনেক চেষ্টা করেছি একটি বেডের জন্য। কিন্তু ব্যবস্থা করতে পারিনি। মেঝেতেই আছি।

চার দিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতে আছে কলেজ এভিনিউর বাসিন্দা জেসমিন বেগম। তার সন্তান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। জেসমিন জানান, হাসপাতালে কোনো বেড খালি নেই। প্রতিদিন প্রচুর রোগী আসছে। মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করিয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. উত্তম কুমার সাহা বলেন, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১২ জানুয়ারি থেকে জ্বর-সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ জনের বেশি শিশু ভর্তি হচ্ছে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি রোগী আসছে প্রতিদিন। জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বেশিরভাগই শিশু। শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা অপ্রতুল। এ জন্য অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আমাদের অপ্রতুলতা রয়েছে। তারপরও চিকিৎসকদের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। চিকিৎসকরা সীমাবদ্ধতার মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নরওয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতায় ফিরল ইংল্যান্ড

সকালের মধ্যে দেশের যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

টাঙ্গাইলে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণ, এলাকায় আতঙ্ক

মাহদী আমিন / ‘সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার’

টেকনাফে ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে বন্য মা হাতি গুরুতর আহত 

মেহেন্দিগঞ্জে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে হাতুড়ির আঘাতে যুবক নিহত, অভিযুক্ত আটক

ভাঙ্গায় সন্ধ্যা থেকে সড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি

স্বাস্থ্যের পরিচালককে নিয়ে বরিশাল ড্যাবের প্রকাশ্যে গ্রুপিং, স্বাস্থ্য বিভাগে অস্থিরতা 

এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার আন্তোনিও রাট্টিন মারা গেছেন

১০

ছোট ছোট ভুল অভ্যাসই বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি: ড. মজিবুল হক

১১

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার জমির উদ্দিন অসুস্থ, খোঁজ নিলেন ডেপুটি স্পিকার

১২

বেদনার আকাশ

১৩

বন্যায় চট্টগ্রামে মাছের ক্ষতি শত কোটি টাকা

১৪

গুলশানে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

১৫

রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত, ক্লাস চলবে

১৬

প্রবাস ফেরত হাবিব ক্যানসার থেকে বাঁচতে চান

১৭

মেসির দুই মিসের পর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি নেবেন কে?

১৮

এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী

১৯

পদ্মায় ধরা পড়ল ৪০ কেজির বিশাল কাতলা

২০
X