আতিকুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

গ্রামের বাসিন্দাদের ভালোবাসায় আবাস গড়েছে শামুকখোল

শামুকখোল ঝাঁক বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে। ছবি : কালবেলা
শামুকখোল ঝাঁক বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে। ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশের আবাসিক পাখি বিলুপ্তির তালিকা দ্রুত লম্বা হচ্ছে। এ তালিকায় যোগ হয়েছে শামুকখোল। এক সময় গ্রামগঞ্জে ঝাঁকে ঝাঁকে শামুকখোলের দেখা মিলত। বর্তমানে এর দেখা মেলা দুষ্কর হয়ে উঠেছে। এ যখন পরিস্থিতি তখন তখন কুমিল্লার একটি গ্রামে পাখিটি আপন মনে ক্ষেত-খামারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

শামুকখোলের বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans। দূর থেকে দেখতে সাদা বকের মতো মনে হলেও লম্বা সরু দুটি পা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পাখিটির একটু কাছ থেকে দেখলে অনায়াসে চেনা যায়। লম্বা দুটি ঠোঁট দিয়ে শামুক ভেঙে খেতে ওস্তাদ, তাই পাখিটির এমন নাম হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের প্রায় সব মাঠে, জলাভূমি, ধানক্ষেতে এখন দেখা মিলে শামুকখোলের।

প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে এসব পাখি অনুকূল পরিবেশ এবং নিরাপদ স্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে বাস করতে পছন্দ করে। শামুক ছাড়াও মাছ, কাঁকড়া, ছোট ছোট প্রাণি, ব্যাঙ ইত্যাদিও আছে পছন্দের খাদ্যের তালিকায়। বাংলাদেশের আবাসিক এই পাখিটি বর্তমানে বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত পাখির তালিকায় রয়েছে।

নোয়াপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দীন বলেন, প্রতিদিন সকালে ধানক্ষেতে গেলেই দেখা মেলে শামুকখোল পাখির। দেখতেও ভালো লাগে। প্রথমে দেখতে বকের মতো মনে হলেও পরে আমরা খেয়াল করি পাখিগুলো বকের চেয়ে অনেকটা বড়। আর পাখিগুলো কালো ও ধূসর রঙের হয়।

তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে নোয়াপাড়া গ্রামের বিভিন্ন গাছের মগডালে আবাস গড়েছে শামুকখোলের দল। গ্রামের লোকজন ভালোবাসায় আগলে রেখেছে পাখিগুলো। পাখির কলকাকলিতেই ঘুম ভাঙে এই গ্রামের মানুষের। খুব সকালে দলবেঁধে খাবারের সন্ধানে মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়ায় পাখিগুলো।

গ্রামের লোকজন জানান, এখন বোরো মৌসুম। বেশির ভাগ সময়ই ধানক্ষেতে থাকে শামুকখোল। সারা দিন ঘুরেফিরে, খেয়ে-দেয়ে সন্ধ্যার আগেই পাখিগুলো ফিরে এসে আশ্রয় নেয় গ্রামের বাঁশঝাড়, শিমুল ও কড়ইগাছের ডালে। গ্রামের লোকজনও বিরক্ত না করে নিরাপদ আশ্রয় করে দিয়েছে এদের।

নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক জহির মিয়া বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামে পাখিগুলো দেখতে পাই। তবে আগের চেয়ে এ পাখির সংখ্যা এখন একটু কম দেখা যায়। আমরা গ্রামবাসী মিলে পাখি শিকারিদের বাধা দিই। এর ফলে পাখিগুলো নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে এখানে বসবাস করছে।

তিনি বলেন, এই পাখিগুলো ধানখেতে থাকা শামুক আর পোকা খেয়ে থাকে। এর ফলে আমাদের খেতেরও উপকার হয়। এ ছাড়া পাখির বর্জ্যে সারের মতো কাজ করে। তাই জমিতে বসলে এ পাখি তাড়াই না। কারণ ধানক্ষেত পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং পাখির বর্জ্যে সারও হচ্ছে। আগে একটু আওয়াজ পেলেই উড়ে চলে যেত, এখন সহজে যায় না। খুব কাছে গেলে তবেই উড়ে গাছে গিয়ে বসে। মাছরাঙা, ডাহুক ও পানকৌড়িদের সঙ্গে এখন এই পাখিগুলো দেখে আনন্দ পাই আমরা।

কৃষিবিদ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহবুবুল হক লিটন বলেন, শামুকখোল সারস জাতীয় পাখি। পৃথিবীতে দুটি প্রজাতি আছে এদের। একটি হচ্ছে এশীয়, আরেকটি আফ্রিকান। বাংলাদেশে যে পাখিটি দেখা যায়, তা হচ্ছে এশীয় প্রজাতির। আফ্রিকান শামুকখোল দেখতে পুরোটাই কালো। শামুকখোল পাখি দলবদ্ধ এবং খাবারের প্রাচুর্য থাকলে অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে থাকতে পছন্দ করে। এই পাখির ঠোঁট অনেকটাই জাঁতাকলের মতো কাজ করায় শক্ত শামুক তারা অনায়াসে গিলে ফেলতে পারে। ফসলের জন্য পাখিটি উপকারী।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনী প্রচার শুরু আজ, কোথায় কখন কর্মসূচি

বারবার গলা পরিষ্কার করা কী বড় কোনো সমস্যার লক্ষণ

বিএনপি থেকে বহিষ্কার তাপস

নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেব : সাঈদ আল নোমান

ইসলামী যুব আন্দোলনে যোগ দিলেন জামায়াত নেতা

আমি মানুষের সেবা করতে এসেছি : বাবর

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সিদ্ধান্ত বদলালেন ট্রাম্প

সকালের নাশতা বাদ দিলে যা হতে পারে

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নিয়োগ দিচ্ছে লংকাবাংলা

১০

গাজায় তিন সাংবাদিকসহ নিহত ১১

১১

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১২

আরএফএল গ্রুপে চাকরির সুযোগ

১৩

২২ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

নির্বাচনী প্রচারে মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ

১৫

জিয়া পরিষদের এক সদস্যকে গলা কেটে হত্যা

১৬

আমিও আপনাদের সন্তান : তারেক রহমান

১৭

মায়ের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না : লায়ন ফারুক

১৮

সিলেটে কঠোর নিরাপত্তা

১৯

জনসভা সকালে, রাত থেকে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

২০
X