শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
আতিকুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

গ্রামের বাসিন্দাদের ভালোবাসায় আবাস গড়েছে শামুকখোল

শামুকখোল ঝাঁক বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে। ছবি : কালবেলা
শামুকখোল ঝাঁক বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে। ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশের আবাসিক পাখি বিলুপ্তির তালিকা দ্রুত লম্বা হচ্ছে। এ তালিকায় যোগ হয়েছে শামুকখোল। এক সময় গ্রামগঞ্জে ঝাঁকে ঝাঁকে শামুকখোলের দেখা মিলত। বর্তমানে এর দেখা মেলা দুষ্কর হয়ে উঠেছে। এ যখন পরিস্থিতি তখন তখন কুমিল্লার একটি গ্রামে পাখিটি আপন মনে ক্ষেত-খামারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

শামুকখোলের বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans। দূর থেকে দেখতে সাদা বকের মতো মনে হলেও লম্বা সরু দুটি পা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পাখিটির একটু কাছ থেকে দেখলে অনায়াসে চেনা যায়। লম্বা দুটি ঠোঁট দিয়ে শামুক ভেঙে খেতে ওস্তাদ, তাই পাখিটির এমন নাম হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের প্রায় সব মাঠে, জলাভূমি, ধানক্ষেতে এখন দেখা মিলে শামুকখোলের।

প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে এসব পাখি অনুকূল পরিবেশ এবং নিরাপদ স্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে বাস করতে পছন্দ করে। শামুক ছাড়াও মাছ, কাঁকড়া, ছোট ছোট প্রাণি, ব্যাঙ ইত্যাদিও আছে পছন্দের খাদ্যের তালিকায়। বাংলাদেশের আবাসিক এই পাখিটি বর্তমানে বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত পাখির তালিকায় রয়েছে।

নোয়াপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দীন বলেন, প্রতিদিন সকালে ধানক্ষেতে গেলেই দেখা মেলে শামুকখোল পাখির। দেখতেও ভালো লাগে। প্রথমে দেখতে বকের মতো মনে হলেও পরে আমরা খেয়াল করি পাখিগুলো বকের চেয়ে অনেকটা বড়। আর পাখিগুলো কালো ও ধূসর রঙের হয়।

তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে নোয়াপাড়া গ্রামের বিভিন্ন গাছের মগডালে আবাস গড়েছে শামুকখোলের দল। গ্রামের লোকজন ভালোবাসায় আগলে রেখেছে পাখিগুলো। পাখির কলকাকলিতেই ঘুম ভাঙে এই গ্রামের মানুষের। খুব সকালে দলবেঁধে খাবারের সন্ধানে মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়ায় পাখিগুলো।

গ্রামের লোকজন জানান, এখন বোরো মৌসুম। বেশির ভাগ সময়ই ধানক্ষেতে থাকে শামুকখোল। সারা দিন ঘুরেফিরে, খেয়ে-দেয়ে সন্ধ্যার আগেই পাখিগুলো ফিরে এসে আশ্রয় নেয় গ্রামের বাঁশঝাড়, শিমুল ও কড়ইগাছের ডালে। গ্রামের লোকজনও বিরক্ত না করে নিরাপদ আশ্রয় করে দিয়েছে এদের।

নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক জহির মিয়া বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামে পাখিগুলো দেখতে পাই। তবে আগের চেয়ে এ পাখির সংখ্যা এখন একটু কম দেখা যায়। আমরা গ্রামবাসী মিলে পাখি শিকারিদের বাধা দিই। এর ফলে পাখিগুলো নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে এখানে বসবাস করছে।

তিনি বলেন, এই পাখিগুলো ধানখেতে থাকা শামুক আর পোকা খেয়ে থাকে। এর ফলে আমাদের খেতেরও উপকার হয়। এ ছাড়া পাখির বর্জ্যে সারের মতো কাজ করে। তাই জমিতে বসলে এ পাখি তাড়াই না। কারণ ধানক্ষেত পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং পাখির বর্জ্যে সারও হচ্ছে। আগে একটু আওয়াজ পেলেই উড়ে চলে যেত, এখন সহজে যায় না। খুব কাছে গেলে তবেই উড়ে গাছে গিয়ে বসে। মাছরাঙা, ডাহুক ও পানকৌড়িদের সঙ্গে এখন এই পাখিগুলো দেখে আনন্দ পাই আমরা।

কৃষিবিদ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহবুবুল হক লিটন বলেন, শামুকখোল সারস জাতীয় পাখি। পৃথিবীতে দুটি প্রজাতি আছে এদের। একটি হচ্ছে এশীয়, আরেকটি আফ্রিকান। বাংলাদেশে যে পাখিটি দেখা যায়, তা হচ্ছে এশীয় প্রজাতির। আফ্রিকান শামুকখোল দেখতে পুরোটাই কালো। শামুকখোল পাখি দলবদ্ধ এবং খাবারের প্রাচুর্য থাকলে অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে থাকতে পছন্দ করে। এই পাখির ঠোঁট অনেকটাই জাঁতাকলের মতো কাজ করায় শক্ত শামুক তারা অনায়াসে গিলে ফেলতে পারে। ফসলের জন্য পাখিটি উপকারী।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এমবাপ্পের পর দেম্বেলের গোল, ২–০ গোলে এগিয়ে সেমিফাইনালের দ্বারপ্রান্তে ফ্রান্স

গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দিয়ে খলনায়ক থেকে নায়কের ভূমিকায় এমবাপ্পে

মেসিকে নিয়ে আনন্দিত ইয়ামাল, পেছনে কী কারণ?

বাঁশখালীতে ভয়াবহ পরিস্থিতি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার

এমবাপ্পের পেনাল্টি ঠেকিয়ে নায়ক বুনো

মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা না মেনে তারাগঞ্জের স্কুলগুলোতে এডহক কমিটি

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের দায়িত্বে এক দেশের তিন রেফারি

মরক্কোর বিপক্ষে বড় তারকাকে ছাড়াই ফ্রান্সের একাদশ ঘোষণা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিরাপদে আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী  

জ্যারেল কোয়ানসাকে ২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করল ফিফা

১০

যুদ্ধের মাশুল ট্রাম্প কীভাবে দেবেন?

১১

‎প্রাথমিক বৃত্তি / ফল প্রকাশের আগেই ওয়েবসাইটে আপলোড, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

১২

সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সরানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

১৩

‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ ভেঙেছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ ইরানের

১৪

ফ্রান্সের বিপক্ষে মহারণের আগে মরক্কোর সংবাদ সম্মেলনে হাতাহাতি

১৫

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

১৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

১৭

হাতিয়ায় ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে উপকূল বিপর্যস্ত

১৮

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে আরাগচির ফোনালাপ

১৯

অভিবাসনের ইতিহাস মূলত স্বপ্ন থেকে বাস্তবে গড়ে ওঠা সংগ্রামের ফলাফল

২০
X