মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চা বাগান ও বনাঞ্চল ঘেরা হওয়ায় এ অঞ্চলে ১০ ডিগ্রিতেই শীতের অনুভূতি যেন তীব্র।
এদিকে সন্ধ্যা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে সড়ক-মহাসড়ক। সে সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া। টানা কয়েক দিনের হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ ও প্রাণীরা।
এ পরিস্থিতিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সড়কে বাসিন্দাদের আনাগোনা কম। ঘর থেকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। এতে কমে গেছে শ্রমজীবীদের আয়। বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা বেশি বিপাকে পড়েছেন।
গাছপালা ও সবুজে ঘেরা থাকায় চা বাগানে সাধারণত শীত, হিম বাতাস ও কুয়াশা তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছেন চা শ্রমিকরা। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে হাড় কাঁপানো শীতে তারা খুবই কষ্টে দিনযাপন করছেন।
চা শ্রমিকরা জানান, স্বল্প আয় থাকায় গরম কাপড় কেনা তাদের অধিকাংশেরই সামর্থ্যের বাইরে। শীত নিবারণে এসব পরিবার সদস্যরা ঘরের ভেতরে ও বাইরে খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহান।
চা বাগানের নারী শ্রমিক মায়া রবিদাস ও লক্ষ্মী রবিদাস বলেন, ‘চা বাগানে হামরা শরমিকদের মাত্র ১৭০ টেকা হাজরি পাই। এ টাকা থেকে কারেন্ট বিল, মন্দির চাঁদা, ইউনিয়নের চাঁদা কাটে। এরপরে হামরা সপ্তাহে ৮০০ টেকা পেয়ে পরিবারে মধ্যে খাবার দাবার-ই করতে পারি না! হামদের সবসময়ই কষ্ঠ থাকে আর ঠান্ডায় বেশি কষ্ট হচ্ছে।’
চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, দেওছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শংকর রবিদাস ও চা শ্রমিক সংঘের নেতা রাজদেও কৈরী বলেন, শীতের সময়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো শীতবস্ত্র বিতরণ করে না। অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার সদস্যরা শীতে কষ্ট পোহাচ্ছেন। তা ছাড়া চা বাগানগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থাও নাজুক।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, আজ শনিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা ও মেঘলা আকাশ কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও নামতে পারে।
মন্তব্য করুন