

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহল। বিশেষ করে এই আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী না থাকায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমিকে ইসলামী আন্দোলন সমর্থন দেবে কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট থেকে সরে এসে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৯ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব লোকমান হোসাইন জাফরী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বাছাইপর্ব শেষে এবং পারস্পরিক সম্মান ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৯ আসনে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি জানায়, জোটগত সমঝোতা না হওয়ায় তারা ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে। তবে ১৮ জানুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো আরেক বিজ্ঞপ্তিতে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান স্পষ্ট করেন— যেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নেই, সেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির সৎ ও দক্ষ প্রার্থীকে আলোচনার ভিত্তিতে সমর্থন দেওয়া হতে পারে।
হাতপাখার প্রার্থী না থাকা আসনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি আসন সিলেট-৫। এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি আবুল হাসান।
আসনটিতে জমিয়ত সভাপতিকে ইসলামী আন্দোলন সমর্থন দেবে কি না— জানতে চাইলে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম কালবেলাকে বলেন, ‘তিনি তো বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সিলেট-৫ এ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী না থাকার বিষয়কে দলের ভিন্ন কৌশল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সিলেট অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক প্রভাব, স্থানীয় আলেম সমাজের অবস্থান এবং ভোটের সমীকরণ— সবকিছু বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সমর্থন কার দিকে যাবে— তা শুধু ওই আসনের ফল নয়, বরং সিলেট অঞ্চলের সামগ্রিক ইসলামপন্থি রাজনীতির হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন