

দোরগোড়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল আয়োজক ভারত। সহআয়োজক শ্রীলঙ্কা। তবে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, বিশ্বকাপ আয়োজন করতে ভারত সমর্থ হবে কি না এখন এমন প্রশ্নও উঠছে।
ভারতে নিপা ভাইরাস ধরা পড়ার পর থেকে এশিয়ার অনেক দেশে ভারতফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে- জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। অবস্থা বেগতিক হলে ফিরে আসতে পারে কোয়ারেন্টিনের যুগ। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ খেলতে আসা ক্রিকেটারদের দুর্ভোগ কী পরিমাণ বাড়বে, তা বলার ইয়ত্তা নেই। অন্যদিকে দর্শক ও সাংবাদিকদের বিড়ম্বনাও বাড়বে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠন ও সংস্থাগুলো ভারতে ছড়িয়ে পড়া নিপা ভাইরাস নিয়ে হাই এলার্ট জারি করেছে। বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে খবর বের করেছে জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার, খাইবার নিউজসহ অনেক সংবাদমাধ্যম।
অত্যন্ত সংক্রামক নিপা ভাইরাস মূলত কাঁচা খেজুরের রস পান করাসহ নানা কারণে ছড়িয়ে পড়ে মানবদেহে। আর একবার মানবদেহে ছড়িয়ে গেলে দ্রুত তা অন্যান্য মানুষের দেহে বিস্তার লাভ করে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, নেই প্রতিষেধকও। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং মহামারি ছড়ানোর ক্ষমতাসম্পন্ন ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সিজিটিএন জানিয়েছে, ভারতে ইতোমধ্যে চিকিৎসাকর্মীসহ পাঁচজন সংক্রমিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ঠিকভাবে স্ক্রিনিং করা গেলে এই সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা-ই বড় প্রশ্ন। যদিও ভারতের মতো জনবহুল দেশে সবার স্ক্রিনিং একদিকে যেমন অসম্ভব, অন্যদিকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও মারাত্মক।
এর আগে করোনাকালে ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। শেষকৃত্য সম্পন্ন করার মতো পরিস্থিতিও ছিল না অনেক জায়গায়। বাধ্য হয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতের পরিবর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অনুষ্ঠিত হয়। এবার নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নিপা ভাইরাসের ভয়াবহতা সমসাময়িক আলোচনায় থাকা অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে মারাত্মক। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। কেউ কেউ সুস্থ হলেও পরবর্তীতে স্নায়ুবিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার নজির রয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, নিপা ভাইরাসে প্রাণ হারানোর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। ভারতের স্বাস্থ্য ও মেডিকেল বিভাগ কীভাবে এই বিপর্যয় সামাল দেয়, তা-ই দেখার বিষয়। কেননা, হাতে যে বেশি সময় নেই।
মন্তব্য করুন