পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগীদের ব্যবস্থাপত্র না দিয়েই হাসপাতাল ত্যাগের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শাকিল হামজার বিরুদ্ধে। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য বেলা ১১টার দিকে তিনি বেলকুচিতে বেসরকারি ক্লিনিকে গেছেন বলে অভিযোগ রোগীদের।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শাকিল হামজার চেম্বার খোলা থাকলেও সেখানে কেউ ছিলেন না। বাইরে পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে রোগী ও স্বজনেরা ভিড় করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ডা. শাকিল হামজা হাসপাতালে টিকিট কেটে আসা রোগীদের দেখেন। বেশ কয়েকজন রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেও দেন তিনি। কিন্তু পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে এসে রোগীরা দেখেন ডাক্তার হাসপাতালে নেই।
শহরের গোশালার বাসিন্দা মাইকেল চৌধুরী নামে এক রোগী বলেন, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আমাকে দেখে কয়েকটি পরীক্ষা করতে দেন ডা. শাকিল হামজা। আমি পরীক্ষা করিয়ে ব্যবস্থাপত্রের জন্য ডাক্তারের চেম্বারে এসে দেখি তিনি নেই। তার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি বলেন, কাল সরকারি ছুটি আপনি পরশু আসেন। ডা. শাকিল ১১টার সময় বের হয়ে বেলকুচির বেসরকারি হসপিটাল বেলকুচি ডায়াবেটিক হাসপাতালে প্র্যাকটিস করতে যান।
সদর উপজেলার চর সয়দাবাদ গ্রামের মর্জিনা বলেন, আমার স্বামী গোলজার হোসেনকে দেখাতে নিয়ে এসেছি। টিকিট কেটে ডা. শাকিল হামজার কাছে তাকে দেখানো হয়। এরপর পরীক্ষার জন্য নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন ডাক্তার। সেখান থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এসে দেখি ডাক্তার নেই।
সয়দাবাদ এলাকার খোদেজাসহ আরও কয়েক রোগী এমন অভিযোগ করেন। তারা বলেন, রোগী দেখার পর বেলা ১১টার দিকেই হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ডা. শাকিল হামজা। এখন ব্যবস্থাপত্রের জন্য আমরা কার কাছে যাব। তিনি ২২ তারিখে আসবেন। দুদিন বিনা চিকিৎসায় ভুগতে হবে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শাকিল হামজা বলেন, আমি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। রোগী ছিল না তাই হাসপাতাল ছেড়ে বেলকুচির বাড়িতে চলে এসেছি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার রায় বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আগামীকাল সরকারি ছুটি। তাই বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন