কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারে পর্যটকদের কাছে অতিরিক্ত রুমভাড়া আদায়ের অভিযোগ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আসা পর্যটকদের ভিড়। ছবি : কালবেলা
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আসা পর্যটকদের ভিড়। ছবি : কালবেলা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারে ভিড় করছেন পর্যটকরা। থাকার জায়গা না পেয়ে রাতেই ফিরে যাচ্ছেন অনেক পর্যটক। ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ দিন পর্যন্ত হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলো শতভাগ বুকিং রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত সময়ের ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন তারা।

এদিকে বরাবরের মতো পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রুমভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে টমটম চালকদের কাছে।

তবে অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের নেতারা বলছেন, আশানুরূপ পর্যটক আসায় এক মাসে শতকোটি টাকার উপরে ব্যবসা হবে কক্সবাজারে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেন্টমার্টিন যাওয়া সীমিত রেখেছে প্রশাসন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস রয়েছে। হোটেল ব্যবসা ছাড়াও রেস্তোরাঁ, শামুক ঝিনুক, শুঁটকি, বার্মিজ পণ্য বিক্রিসহ অন্যান্য পর্যটনশিল্প ব্যবসা মিলে ফেব্রুয়ারির এক মাসে শতকোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গেল কয়েক বছর ধরে পর্যটন ব্যবসায় মন্দা গেলেও ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিকভাব রেল চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকরা আসা স্বাভাবিক হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাড়তে থাকে পর্যটকের আনাগোনা। সরকারি এবং সাপ্তাহিক ছুটিতে এ সংখ্যা বাড়ে কয়েকগুণ।

কলাতলী পয়েন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, বন্ধুরা মিলে কক্সবাজারে বেড়াতে আসছিলাম। কিন্তু কোনো হোটেলে রুম না পেয়ে রাতেই আবার ঢাকায় ফিরে যাব।

লাবণী পয়েন্ট এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদ্দাম, রাকিব, সাজ্জাদসহ অন্যরা জানিয়েছেন, শিক্ষকসহ আমরা প্রায় ৭০ জন কক্সবাজার বেড়াতে এসেছি। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যতবার আসি ততবার ভালো লাগে। তবে পর্যটন স্পটগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে। কোথাও কোনো সৌন্দর্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, নিজের ব্যস্ততা ও ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার কারণে বেড়ানোর তেমন সুযোগ হয় না। তাই দুই দিনের জন্য কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছি। তবে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ছাড়া বেড়ানোর আর কোনো জায়গা নেই। বলতে গেলে একদিন পর আর কক্সবাজারে ভালো লাগছে না।

আফজালুর রহিম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, রেলে চড়ে কক্সবাজার নেমেই টমটম চালকদের কাছে হয়রানির শিকার হয়েছি। তার চেয়েও জঘন্য তাদের আচরণ। এরপরে দ্বিতীয়বার হয়রানির শিকার হতে হয় হোটেল ভাড়া নিয়ে। একটি রুমের ভাড়া চার হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

সৈকতে আসা বেশিরভাগ পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সবকিছু পাল্টিয়েছে কিন্তু বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে সাজানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সৈকত ছাড়া ঘুরে বেড়ানোর আর কোনো জায়গাও নেই। অথচ পর্যটকরা টাকা খরচ করতে কক্সবাজারে আসেন।

এদিকে মিয়ানমারের ওপারে গোলাগুলির ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে টেকনাফ সেন্টমার্টিন জাহাজ চলাচল। তবে ইনানী সৈকত দিয়ে দুটি জাহাজ চলাচল করছে। যেখানে পর্যটকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অতিরিক্ত পর্যটক বোঝাই এবং অনিরাপদভাবে পর্যটকদের আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। সম্প্রতি জাহাজ দুটিকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

হোটেল সী-প্রিন্সেসের সিনিয়র ম্যানেজার মাজেদুল বশর চৌধুরী সুজন বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটক আসা শুরু করেছে। আমাদের হোটেলে পুরো মাস শতভাগ বুকিং রয়েছে।

হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বীচ হলিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজুর রহমান লাভলু বলেন, পর্যটক আসায় আমাদের ব্যবসা ভালো হচ্ছে। আশা করছি, বিগত সময়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।

হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, আমাদের সমিতিভুক্ত কোনো হোটেল বা গেস্টহাউস কর্তৃপক্ষ যদি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে তবে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তবে সমিতির বাইরে যারা আছে তাদের বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারছি না।

পর্যটকের কাছ থেকে অতিরিক্ত রুম ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পায়নি বলে জানিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত কোনো পর্যটক আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেননি। তারপরও পর্যটকদের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসন।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তিনি বলেন, পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। হয়রানির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নবাবগঞ্জে মহিলা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

১৮ জুলাই: অভ্যুত্থানের প্রথম বিজয় এসেছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে

বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ শনিবার

ঝিনাইদহে ওসির সামনে ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল বিশ্বের সবচেয়ে দামী

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার নতুন সভাপতি সাঈদ-সম্পাদক জসিম

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতি নয়: ডা. জাহিদ

ভাড়া বাসা থেকে নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

যমুনার পানি বৃদ্ধি: আমনের বীজতলা তলিয়ে বিপাকে কৃষক

আই হ্যাভ এ প্ল্যান: লেবারের নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম

১০

বগুড়ায় পরীক্ষা শুরুর ২২ মিনিট পর প্রশ্ন বিতরণ, এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

১১

কারাগারের দেয়াল টপকে পালালেন আসামি

১২

শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই চাচি গ্রেপ্তার

১৩

সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বাপ্পি গ্রেপ্তার

১৪

আইনমন্ত্রীর পরিচয়ে প্রতারণা করতেন আতিয়ার

১৫

ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে পা পিছলে পর্যটকের মৃত্যু

১৬

মিটফোর্ড বিতর্কের কয়েক সপ্তাহ পর স্ত্রী-নবজাতককে হারালেন জবি ছাত্রদল নেতা 

১৭

কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ আঘাত হানল টর্নেডো

১৮

কোন জার্সি পরে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা?

১৯

টিউবওয়েলের পানি পান করে একজনের মৃত্যু, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অর্ধশতাধিক 

২০
X