কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলম ও তার অনুসারীরা তাণ্ডব করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করেও অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।জাফর আলম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত হয়েছেন।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অনুষ্ঠান সঞ্চালক রাজিবের কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন জাফর আলম। এতে শ্রদ্ধা জানানোর নিয়ন্ত্রণ তার কাছে চলে যায়। এ ঘটনায় শহীদ মিনার ও মাঠে উপস্থিত সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরীসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে চকরিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। এর আগে থেকে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিব উর রাজা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অবস্থান করছিলেন। এরই মধ্যে দলবল নিয়ে সেখানে যান জাফর আলম। এরপরই হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।
এদিকে শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী এতে বক্তব্য দেন।
তারা অভিযোগ করে বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলম শহীদ বেদীতে বিশৃঙ্খলা করেছেন। শহীদ বেদী এলাকায় তারা দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও কালো রংয়ের গাড়িতে করে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে গেছেন। বর্তমান এমপি সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমকে গালাগাল এবং হুমকি দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ব্যাপারে ঘটনার সময় জাফর আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরেও তার পক্ষে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে সাবেক এমপি ও তার অনুসারীরা এ ধরনের আচরণ না করলেও পারতেন। শহীদ মিনারে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া উচিত হয়নি। কেউ অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্র নিয়ে কেউ গিয়েছে কি না আমার জানা নেই, নজরেও পড়েনি।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের এমপি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, তারা হঠাৎ এসে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে পড়েন। সঞ্চালকের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে মঞ্চ দখলে নেন। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। প্রথম প্রহরে ঘটা বিস্তারিত ঘটনা আমি রাতেই কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি।
মন্তব্য করুন