মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মিঠা পানির মাছের অভয়ারণ্যখ্যাত ৩টি বৃহৎ বিলের মধ্যে ভাতছালা বিল অন্যতম। এই বিলটি উপজেলার চালা ইউনিয়নের প্রায় ২২টি গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত। এখানে বর্ষাকালে যেমন মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। তেমনি বর্ষার পানি চলে যেতেই হয়ে উঠে কৃষিনির্ভর। ফলে চলতি রবি মৌসুমে এ বিলের চতুর্দিকে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপক পরিমাণে চাষ করেছে বোরো ধান। ফলে সবুজ ধানের সমারোহে পরিণত হয়েছে এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় প্রায় এক ফুট উঁচু বোরো ধানের গাছগুলোর সবুজ পাতা বাতাসে দোল খেতে দেখা যায়। পুরো বিলজুড়ে দেখা যায় বেশ কয়েকটি সেচ মেশিন। বোরো ধানক্ষেতে পানি দিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, তৎকালীন সময় থেকেই দক্ষিণ মানিকগঞ্জের সর্ববৃহৎ বিল হিসেবে পরিচিত। এখানে মাছের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে আমন ও বোরো ধান চাষ হতো। ফলে এ বিলের নামকরণ করা হয় ভাতছালা বিল। এই বিলের চতুর্দিকে দিকে রয়েছে প্রায় ২২ গ্রাম। ২২টি গ্রামের মানুষের জমি রয়েছে বিলটিতে। আগের মতো এখন আর বর্ষা না হওয়ায় মাছের পরিমাণ অনেকটাই কম। তবে বর্ষার পানি শুকিয়ে যেতেই সরিষা, পিয়াজ, ভুট্টা ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০টি জাতের বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৮৩০ হেক্টর জমি। আর ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৮০০ টন। এর মধ্যে চালা ইউনিয়নের ৩টি ব্লকের মধ্য সট্টি ব্লকের আওতায় ৩০০ হেক্টর জমির মধ্যে ভাতছালা বিলেই বোরো ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে।
চালা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ইজদিয়া গ্রামের রায়হান মোল্লা জানান, আমি ২ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। ফলন ভাল হলে ৫০ মণ ধান হতে পারে। এক সময় এখানে অনেক ধান চাষ হতো। ধান চাষ থেকেই কিন্তু এই বিলের নাম হয়েছে ভাতছালা বিল। মুরব্বিদের মুখে শুনেছি, আগে না কি ফাল্গুন মাসে এই বিলের মাঝামাঝিতে ২০ ফুটেরও বেশি পানি থাকত। আর তখন মাছ পাওয়া যেত প্রচুর পরিমাণে। কালে কালে মাটিতে ভরাট হয়ে বিলের গভীরতা এখন নেই বললেই চলে। এখন মাছের চেয়ে ফসলাদিই বেশি হয়। ধান, পাট, ভুট্টা, সরিষা, পিঁয়াজসহ নানা রকম ফসলের চাষ হয়।
একই গ্রামের কুব্বাত বিশ্বাস জানান, আমি আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। এর আগে সরিষা বুনছিলাম। সরিষা তুলে বোরো ধান লাগাইছি। ধান ভালো হলে ছয় মাস খাওয়ার কাজ চলবে। বাকি ছয় মাস হয়তো কিনে খেতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বোরো ধান আবাদের পরিমাণ অনেকটা ভালো। আমরা চেষ্টা করছি ধানের আবাদ এবং উৎপাদনটা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়। সেজন্য কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকরা যেন সার, বীজ ঠিকমতো পায় সেদিকেও আমাদের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। বিল বাঁওড় সাধারণত মাছের জন্য বিখ্যাত হওয়ার কথা। সেখানে আজ পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান চাষ হচ্ছে। এটা আমাদের দেশের খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় অবশ্যই সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।
মন্তব্য করুন