সজীব নন্দন দেব, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৪, ১২:৪১ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০১:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ধানের বিনিময়ে পণ্য

ধানের বিনিময়ে সবজি বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা। ছবি : কালবেলা
ধানের বিনিময়ে সবজি বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা। ছবি : কালবেলা

টাকা ছাড়াই শুধু পণ্য বিনিময় করে মিলছে শাকসবজিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সারাদিন ভ্যানগাড়িতে পণ্য ফেরি করে বিনিময় করছেন বিক্রেতারা। অনেকে অস্থায়ী দোকানঘর তৈরি করেছেন। প্রতি বছরই এমনই ব্যতিক্রমী ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকান বসে জেলাজুড়ে।

বৈশাখের শুরু থেকে হাওরাঞ্চলে ধানের বিনিময়ে টমেটো, শসা, ঝিঙা, আলুসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি হয়। শুধু সবজি নয়, আইসক্রিম, গরম গরম জিলাপিও বিক্রি হচ্ছে। পুরো বৈশাখ মাসেই চলবে এমন আয়োজন।

একজন বিক্রেতার কাছে ফলমূল-সবজি আছে, কিন্তু ধান নেই। আবার ক্রেতাদের কাছে ধানের মজুদ রয়েছে, সবজি নেই। আবার কারও জিলাপি খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু টাকা নেই, এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতা ও বিক্রেতার টাকা ছাড়া লেনদেনই হলো পণ্য বিনিময়।

হাওরে ভালো ধান হলে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তখন নির্দিষ্ট সময়ে এ রকম লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে। জেলায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানে ধনী এই জেলার মানুষ। আর তাই তো প্রতিটি ধানের খলায় এমন পণ্য বিনিময়ের আয়োজন।

বছরের এই সময়ে দম ফেলার ফুসরত নেই কৃষকের। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাজারে যাওয়ার সময়টুকু নেই তাদের। সারাদিন ধানের খলায়, মাড়াই, ছিটা ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এ রকম ধানের বিনিময়ে পণ্য পাওয়ায় খুশি তারা। তবে হাওরে ধান কাটা ও মাড়াই শেষ। ধান খলায় শুকিয়ে সিংহভাগ কৃষকের গোলায় তোলার কাজও শেষ। সম্প্রতি তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের পাড়ের একটি ধানের খলায় আলাপ হয় বিক্রেতা গণি মিয়ার সঙ্গে। তিনি একটি ভ্যানগাড়িতে শুঁটকি, সিদল, আলু, টমেটো, শসা, ঝিঙা, পেঁয়াজ, রসুনসহ আরও নানা জাতের সবজি বিক্রি করছিলেন।

তিনি বলেন, ১ কেজি ধানে ১ কেজি টমেটো, ২ কেজি ধানে ১ কেজি কাঁচামরিচ, একই দরে ১ কেজি চিচিঙা, ১ কেজি ধানে ১ কেজি ঢেঁড়স, ১ কেজি ধানে ৫০ গ্রাম সিদল ও ৩ কেজি ধানে ১ কেজি আলু বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন, বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই তিনি ভ্যানে করে শাকসবজি বিক্রি করছেন। যেখানে ধানের খলা, সেখানেই তার ভ্যান যায়। কৃষক-কৃষাণীরা তার কাছ থেকে ধানের বিনিময়ে এসব জিনিস নেন। এ ছাড়াও অনেকে টাকা দিয়েও শাকসবজি কিনেন তার কাছ থেকে।

ঝালমুড়ি ও আইসক্রিম বিক্রেতা সুহেল মিয়া জানান, প্রতি কেজি ধান ২০ টাকা দরে রেখে আইসক্রিম ও ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন তিনি। এভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ মণ ধান সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।

বড়দল গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. আকরামিন মিয়া বলেন, আমরা বৈশাখে ধান দিয়েই মাছ, শাকসবজি কিনে থাকি। সবাই হাওরে ও ধানের খলায় কাজ করছে। বাজারে যাওয়ার সময় নাই। এসব ভ্রাম্যমাণ দোকান বাড়ির কাছে ধানের খলায় আসায় আমাদের সুবিধা হয়। ধান চাল তো ঘরেই আছে। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তাদের কাছ থেকে ধান দিয়ে নিয়ে নিই।

খলার পাশে অস্থায়ী দোকান করে গরম গরম জিলাপি বিক্রেতা মো. মাসুক মিয়া বলেন, ১২ থেকে ১৫ কেজি ধানের বিনিময়ে এক কেজি গরম গরম জিলাপি বিক্রি করি। ধান ভালো হলে ১২ কেজি আর একটু কম শুকানো হলে ১৫ কেজি ধান রেখে ১ কেজি জিলাপি দিচ্ছি।

জিলাপি বিক্রেতা আরও জানান, প্রতি বছর বৈশাখে এক মাসের জন্য এরকম অস্থায়ী দোকান ঘর দিয়ে জিলাপি বিক্রি করেন। প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ মণ ধান সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবা-ভাইকে মারধর

চোখ-মুখ ঢেকে বন্দির মতো সমুদ্রে ফেলে দেয় ভারত

তিন বেলা ভাত খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর?

কাশ্মীরে আটকা পড়লেন মাধবন

সন্ধ্যা নামলেই পাহাড় থেকে আসছে হাতির পাল, গ্রামে গ্রামে আতঙ্ক

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে 

কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টাইন ফুটবলার খুঁজে পেলেন নতুন ঠিকানা

জুমার খুতবা চলাকালে কথা বলা কি জায়েজ?

চাকরিজীবী থেকে বলিউড নায়িকা, যা বললেন সোহা

এবারের নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ : ইসি আনোয়ারুল 

১০

আমরা আমাদের মতো করে বাঁচি: নুসরাত জাহান

১১

দিনে কখন ও কয়টি কাঠবাদাম খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার

১২

লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন আদালতে

১৩

বদলে গেল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-নাঈম শেখদের দল

১৪

ঘুম হারিয়েছেন সিদ্ধার্থ

১৫

আজ ঢাকার বাতাস সহনীয়, দূষণের শীর্ষে দোহা

১৬

কারাগার থেকে বেরিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

১৭

মহড়ার সময় এফ-১৬ বিধ্বস্ত, বেঁচে নেই পাইলট

১৮

অনেক কিছুই নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে : বিসিবি সভাপতি

১৯

আফ্রিদিকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে

২০
X