শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪, ১০:২১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কালের সাক্ষী ‘অভিশপ্ত নীলকুঠি’

ঝিনাইদহের মহেশপুরের নীলকুঠি। ছবি : কালবেলা
ঝিনাইদহের মহেশপুরের নীলকুঠি। ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য। তবে যত্নের অভাবে কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো। এমনই এক প্রচীন স্থাপত্য নীলকরদের স্মৃতিবিজড়িত ‘নীলকুঠি’।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর গ্রামের কপোতাক্ষ নদের ধারে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি। স্থানীয় মানুষের কাছে কাচারি বাড়ি হিসেবে পরিচিত এই নীলকুঠি। খালিশপুর বাজারের পশ্চিমপাশে ৯ একরেরও বেশি জায়গা নিয়ে ভবনটি অবস্থিত।

অনেকেই ধারণা করেন দালানটি আঠারো শতকে নির্মিত হয়েছিল। এ কুঠি বাড়ি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব বাংলার কৃষকদের নীল উৎপাদনে উৎসাহী করা ও নীলচাষ দেখাশোনা করা। ইংরেজ মি. ডেভরেল এ কুঠিবাড়ি থেকে এই অঞ্চলের নীলচাষ পরিচালনা করতেন।

শিল্প বিপ্লবের পথিকৃৎ ছিল ইংল্যান্ড। ওই সময় ইংল্যান্ডে সাদা কাপড়ের চাহিদা ছিল অত্যাধিক। কাপড়ের সাদা রং বজায় রাখার জন্য নীল ছিল একটি অত্যাবশকীয় উপাদান। ভারতবর্ষ বৃটিশদের উপনিবেশ হওয়ায় বলপূর্বক ইংরেজরা ভারতবর্ষকে নীলচাষের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। নীলচাষের ফলে জমির উর্বরতা হারাত, তাই চাষিদের নীলচাষে অনীহা ছিল। অধিকাংশ চাষিরা ইংরেজদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যও পেত না। যারা নীলচাষ করত না তাদের নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। এই কুঠিরেই কিছু কক্ষ নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করা হতো।

পরে ইংরেজরা উপমহাদেশে থেকে বিতাড়িত হলে কুঠির ভবনটি সিও অফিস হিসেবে ১৯৫৬-৫৭ ও ১৯৮৩-৮৪ সালে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের পর থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত এটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ছিল। বর্তমানে কুঠিরটি জরাজীর্ণ, সংস্কারের অভাবে কুঠি বাড়িটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী (৬৫) জানান, বেশ কয়েক বছর আগে সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। কুঠিবাড়ির চার পাশে রয়েছে শত বছরের বড় বড় আমগাছ। পাশে আরও অনেক বাড়ি ঘর ছিল, যা ব্রিটিশদের গাড়ি রাখাসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হতো। এ ছাড়াও ছিল বৈকালীন অবকাশ যাপনের জন্য জায়গা, যা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নীলকুঠি অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৮-১৯ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাফুর রহমান এখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ইকোপার্ক তৈরি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আলোর মুখ দেখেনি।

স্থানীয়দের দাবি, কুঠিবাড়িটি এলাকার মানুষের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ফলে এটি এখন ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। তাই এটি সংরক্ষণ করার দাবি তাদের।

ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সালাউদ্দিন মিয়াজী বলেন, প্রাচীন ঐতিহ্য বহনকারী নীলকুঠিটি সংস্কার করে এখানে একটি ইকোপার্ক করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্থগিত নয় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা

শেষ মুহূর্তের গোলে বিদায় নিল বেলজিয়াম, সেমিফাইনালে স্পেন

ইরান আমাকে হত্যা করলে, নজিরবিহীন ‘বোমা হামলা’ হবে: ট্রাম্প

রূপগঞ্জের ৩৪ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন পরিদর্শন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনির পোস্ট

সমতায় থেকে বিরতিতে গেল বেলজিয়াম-স্পেন

এবার নোরা ফাতেহির ফেক ভিডিও ভাইরাল

সেমির লড়াইয়ে মাঠে নামল স্পেন-বেলজিয়াম

বিতর্কের পর বিশ্বকাপে ভিএআরে বড় পরিবর্তন আনল ফিফা

বাঁশখালীর বন্যার্ত মানুষের পাশে ঢাবি ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দিন শাওন

১০

‘শুধু হিন্দুরাই বৃত্তি পেয়েছে’ দাবিতে ভুল তথ্য ভাইরাল

১১

কক্সবাজারে ২০০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ৬ লাখ মানুষ

১২

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাতিয়ার ৮০ গ্রাম, পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ

১৩

বিএআরএফের সভাপতি নিজামুল হক, সম্পাদক কাওসার আজম 

১৪

হাওরে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ

১৫

রেলস্টেশনে বাক্‌প্রতিবন্ধী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

১৬

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সংরক্ষণের প্রত্যয় সাবকন্টিনেন্ট ফ্রেন্ডস অব ক্যাম্পবেলটাউনের

১৭

সরকারি কেয়ার সেন্টারে শিশু অন্তঃসত্ত্বা, ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত

১৮

‘স্ট্যান্টবাজি করতেই ১১ দল তিস্তা নিয়ে আন্দোলনের কথা বলছে’

১৯

বিটিভিতে বিরোধীদলীয় নেতার খবর, বদলাচ্ছে চিরাচরিত ধারা

২০
X