মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪, ১০:২১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কালের সাক্ষী ‘অভিশপ্ত নীলকুঠি’

ঝিনাইদহের মহেশপুরের নীলকুঠি। ছবি : কালবেলা
ঝিনাইদহের মহেশপুরের নীলকুঠি। ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য। তবে যত্নের অভাবে কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলো। এমনই এক প্রচীন স্থাপত্য নীলকরদের স্মৃতিবিজড়িত ‘নীলকুঠি’।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর গ্রামের কপোতাক্ষ নদের ধারে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি। স্থানীয় মানুষের কাছে কাচারি বাড়ি হিসেবে পরিচিত এই নীলকুঠি। খালিশপুর বাজারের পশ্চিমপাশে ৯ একরেরও বেশি জায়গা নিয়ে ভবনটি অবস্থিত।

অনেকেই ধারণা করেন দালানটি আঠারো শতকে নির্মিত হয়েছিল। এ কুঠি বাড়ি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব বাংলার কৃষকদের নীল উৎপাদনে উৎসাহী করা ও নীলচাষ দেখাশোনা করা। ইংরেজ মি. ডেভরেল এ কুঠিবাড়ি থেকে এই অঞ্চলের নীলচাষ পরিচালনা করতেন।

শিল্প বিপ্লবের পথিকৃৎ ছিল ইংল্যান্ড। ওই সময় ইংল্যান্ডে সাদা কাপড়ের চাহিদা ছিল অত্যাধিক। কাপড়ের সাদা রং বজায় রাখার জন্য নীল ছিল একটি অত্যাবশকীয় উপাদান। ভারতবর্ষ বৃটিশদের উপনিবেশ হওয়ায় বলপূর্বক ইংরেজরা ভারতবর্ষকে নীলচাষের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। নীলচাষের ফলে জমির উর্বরতা হারাত, তাই চাষিদের নীলচাষে অনীহা ছিল। অধিকাংশ চাষিরা ইংরেজদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যও পেত না। যারা নীলচাষ করত না তাদের নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। এই কুঠিরেই কিছু কক্ষ নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করা হতো।

পরে ইংরেজরা উপমহাদেশে থেকে বিতাড়িত হলে কুঠির ভবনটি সিও অফিস হিসেবে ১৯৫৬-৫৭ ও ১৯৮৩-৮৪ সালে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের পর থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত এটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ছিল। বর্তমানে কুঠিরটি জরাজীর্ণ, সংস্কারের অভাবে কুঠি বাড়িটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী (৬৫) জানান, বেশ কয়েক বছর আগে সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। কুঠিবাড়ির চার পাশে রয়েছে শত বছরের বড় বড় আমগাছ। পাশে আরও অনেক বাড়ি ঘর ছিল, যা ব্রিটিশদের গাড়ি রাখাসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হতো। এ ছাড়াও ছিল বৈকালীন অবকাশ যাপনের জন্য জায়গা, যা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নীলকুঠি অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৮-১৯ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাফুর রহমান এখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ইকোপার্ক তৈরি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আলোর মুখ দেখেনি।

স্থানীয়দের দাবি, কুঠিবাড়িটি এলাকার মানুষের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ফলে এটি এখন ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। তাই এটি সংরক্ষণ করার দাবি তাদের।

ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সালাউদ্দিন মিয়াজী বলেন, প্রাচীন ঐতিহ্য বহনকারী নীলকুঠিটি সংস্কার করে এখানে একটি ইকোপার্ক করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাটগ্রাম সীমান্তে ৩ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি ও জনতা

পেশাগত নিবন্ধনের দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের মানববন্ধন

আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে সাইবার হামলা, সন্দেহের তীর ‘মিশরীয়’ হ্যাকারদের দিকে

৬৮ বছর পর বিশ্বকাপে এমন নজির গড়ল স্পেন

বাড়ি থেকে বেরিয়ে লাশ হয়ে ফিরল কিশোর জিহাদ

ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকার

ডিমের যৌক্তিক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ ও পোল্ট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডাটাবেজ চালুর দাবি 

বান্দরবান-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন 

বিশ্বকাপে গোল মিস করা ফুটবলারকে হত্যার হুমকি

দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু

১০

জুলাই আন্দোলনে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার

১১

সুন্দরবনে ফিরছে সেই বাঘিনী

১২

চাকরি ও সম্পত্তির লোভে মা-বাবাকে হত্যার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে

১৩

ধূমপানমুক্ত ভোক্তা অধিদপ্তর কার্যালয়, হার্ট ফাউন্ডেশনের অভিনন্দন

১৪

পাহাড় ধস-জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা নেই, দুয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতির আশা

১৫

আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ককে ‘দেখলে মেরেই ফেলতেন’ স্কালোনি! কিন্তু কেন?

১৬

শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

১৭

যমুনার তীরে নতুন বন্দর

১৮

নিজ মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করলেন বাবা-মা, নেপথ্যে...

১৯

অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিককে যুবদল নেতার হুমকি

২০
X