বিশ্বকাপের আগে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে যখন প্রস্তুতির ব্যস্ততা, ঠিক তখনই অস্বস্তিকর এক বাস্তবতা সামনে এলো। দেশের সেরা তারকাদের নাম উঠে এসেছে জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থার কড়া নজরদারির তালিকায়। জাসপ্রীত বুমরাহ ও শুভমান গিল—ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মুখই এখন সরাসরি ডোপিং পরীক্ষার আওতায় থাকা বিশেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের জন্য ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (নাডা) তাদের রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুল (RTP) হালনাগাদ করেছে। নতুন তালিকায় মোট ৩৪৭ জন ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। এই সম্প্রসারণ ভারতের অ্যান্টি-ডোপিং কার্যক্রমকে আরও কঠোর করারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাডার নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকাভুক্ত অ্যাথলেটদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে এবং যে কোনো সময় ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য দিতে তিনবার ব্যর্থ হলে সেটিকেই ডোপিং বিধি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে—যার শাস্তি হতে পারে গুরুতর।
ক্রিকেট থেকে এই তালিকায় আছেন মোট ১৪ জন খেলোয়াড়। বুমরাহ ও শুভমান গিল ছাড়াও আছেন ঋষভ পান্ত, হার্দিক পান্ডিয়া, যশস্বী জয়সওয়াল, কেএল রাহুল ও অর্শদীপ সিংয়ের মতো তারকারা। নারী ক্রিকেট থেকে যুক্ত হয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা ও জেমিমা রদ্রিগেজ, যারা সম্প্রতি বড় আসরে ভারতের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তবে সবচেয়ে বড় সংখ্যক সংযোজন হয়েছে অ্যাথলেটিক্সে। প্রায় ১১৮ জন নতুন অ্যাথলেট এই বিভাগ থেকে তালিকায় ঢুকেছেন। নাডার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সামনে কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়ান গেমস থাকায় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
এই তালিকা প্রকাশের পেছনে আরেকটি কঠিন বাস্তবতাও কাজ করছে। বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (WADA)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে টানা তৃতীয়বারের মতো ডোপিং অপরাধে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম এসেছে। বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্স, ভারোত্তোলন ও কুস্তিতে ডোপিংয়ের হার উদ্বেগজনক।
ফলে বুমরাহ বা গিলের মতো তারকার নাম এই তালিকায় থাকা মানে কোনো অভিযোগ নয়, বরং নজরদারির মাত্রা যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, তারই প্রমাণ। ভারতের ক্রীড়াঙ্গন এখন এক স্পষ্ট বার্তার মুখোমুখি—পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও শুদ্ধতার প্রশ্নে আর কোনো ছাড় নেই।


| ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ 



