ভাঙ্গুড়ায় কচুরিপানা আর দূষণে এক সময়কার ঐতিহ্যবাহী প্রমত্তা বড়াল নদী বর্তমানে নদী না খাল তা দেখে বোঝার উপায় নেই। পাবনার চাটমোহরের কিছু অংশ, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরের কিছু অংশজুড়ে কচুরিপানা আটকে রয়েছে মাসের পর মাস। সেইসঙ্গে ময়লা আবর্জনা ও বাসাবাড়ির সুয়ারেজের লাইনে বড়াল নদীর পানিতে মিশে প্রতিনিয়ত দূষণ হচ্ছে। ফলে পোকামাকড় ও মশার উপদ্রব বেড়েছে নদীর তীরবর্তী এলাকায়। স্থানীয়রা বড়াল নদীর কচুরিপানা অপসারণ ও দূষণ রোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাটমোহরের কিছু অংশ ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার কিছু অংশসহ মাইলের পর মাইলজুড়ে বড়াল নদী অবস্থান নিয়েছে কচুরিপানা। মাসের পর মাস এসব কচুরিপানা বড়ালে আটকে তিল পরিমাণ জায়গাও ফাঁকা রাখেনি। পাশাপাশি ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকা এবং আশপাশের বাসাবাড়ির সুয়ারেজ লাইন, গবাদিপশুর বর্জ্য, হাসপাতাল-ক্লিনিকের ময়লা, মুরগির উচ্ছিষ্ট অংশসহ নানা ধরনের ময়লা প্রতিনিয়ত মিশে দূষণ হচ্ছে নদীর পানি। একদিকে কচুরিপানায় সাপ, মশা ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে, অন্যদিকে ময়লা অবর্জনায় দূষিত পানিতে মাছ পাওয়া ও নৌকা চলাচল যেন দুস্বপ্ন। নদীপাড়ের মানুষ নদীর পানি পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষে মুখে মুখে একই প্রশ্ন- এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী।
আরও পড়ুন : কুমিল্লায় শতাধিক পরিবারের দখলে সরকারি খাল
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড়াল নদীর উৎপত্তি রাজশাহী জেলার চারঘাট থেকে পদ্মা নদীর শাখা নদী হিসেবে। রাজশাহীর চারঘাট থেকে বাঘা, নাটোরের বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঘাবাড়ী হয়ে এটি হুড়া সাগরে মিশে নাকালিয়া নামক স্থানে যমুনা নদীতে মিশেছে। এটি পদ্মা-যমুনার সংযোগকারী নদী ছিল। এ ছাড়া এই নদী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলাভূমি চলন বিলের পানিপ্রবাহের প্রধান সংযোগ নদী। চলন বিলঞ্চালের পানিপ্রবাহ ও নিষ্কাশনে হাজার হাজার হেক্টর এলাকার কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনে বড়াল নদী সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তবে কালক্রমে বড়াল নদীতে পলিমাটি ও ময়লা আবর্জনা জমে নদীর তলদেশ স্ফীত হওয়ার কারণে নদীর পানিপ্রবাহ এবং স্রোত উভয়ই কমে গেছে। অন্যদিকে নদীর তীর দখলও এর জন্য কম দায়ী নয়।
বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমের মতো সারা বছর বড়ালে পানি থাকলেই নদীকে বাঁচানো সম্ভব। বড়াল যেভাবে দখল হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে, সেটি রোধ করা দরকার। একইসঙ্গে বড়াল এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বড়ালে। বর্তমানে কচুরিপানা আটকে আরও এক বড় সমস্যা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান জানান, বড়াল নদীতে আবদ্ধ কচুরিপানার বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে এর একটা সুষ্ঠু সমাধান আনা যায়- তা ভেবে দেখা হচ্ছে। তবে বন্যার পানি দ্রুতবৃদ্ধি পেলে কচুরিপানা হয়তো সরে যাবে।
মন্তব্য করুন