জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৪, ১১:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এক ঈদগাহে দুই প্যান্ডেল, আলাদাভাবে ঈদের নামাজ

এক ঈদগাহে দুই প্যান্ডেল। ছবি : কালবেলা
এক ঈদগাহে দুই প্যান্ডেল। ছবি : কালবেলা

প্রতিহিংসার জেরে এক মাঠে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন শরীয়তপুরের জাজিরার মুসল্লিরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৭ জুন) সকালে জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের দড়িকান্দি আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলাদা দুটি প্যান্ডেল করে ঈদের নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে মুসল্লিদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পালেরচর ইউনিয়নের হাওলাদার ও দড়ি বংশের লোকজনের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এই দুই সমাজের মানুষের মধ্যে আলাদা মতবাদ থাকায় গত ঈদুল ফিতর থেকে একই মাঠে দুটি প্যান্ডেল করে আলাদা জামায়াতে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। তবে গত বছর পর্যন্ত ওই দুই বংশের লোকজন একই প্যান্ডেলে ঈদের নামাজ আদায় করছেন। আর এই বিভক্ত হওয়ার মূল কারণ হিসেবে দুই বংশের মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষকেই দায়ি করছেন স্থানীয়রা।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ঈদুল আযহার নামাজ হাওলাদার বংশের লোকজন সকাল সাড়ে ৬ টায় ও দড়ি বংশের লোকজন সকাল ৭ টায় আদায় করেছেন। তবে দুই পক্ষ আলাদা ভাবে নামাজ পড়লেও একে অপরের প্রতি কোনো অভিযোগ করছেন না। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা করে মন্তব্য করেন।

মাহমুদুল হাসান শাকুরী নামে একজন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্টে লিখেছেন, এক মাঠে পৃথক দুটি ঈদ জামাত। খোঁজ নিয়ে দেখেন, এই অপকর্মের মূল হোতা বা কুটিলও দুইদিন আগে ফেস্টুন বানিয়েছে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক সবার প্রাণ। আমাদের কর্মকাণ্ড দেখে ইবলিশও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন।

সেলিম আহমেদ নামে একজন ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন, ইতিহাসে যা ঘটেনি তাই দেখলাম। পালেরচড়ের দড়ি কান্দির মানুষ একের পর এক মনুষ্যত্ব ও ভ্রাতৃত্বের চমক দেখাচ্ছেন। একই মাঠে আলাদা ঈদের জামাত। টাকা আর আত্মঅহমিকার নামে এরা আজ যেখানে গিয়েছে শয়তানও এদের নিয়ে চিন্তায় পরে গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দুই বংশের হাতে গোনা কয়েকজনের মতবিরোধের কারণে ঈদের নামাজের মত সম্প্রীতির অনুষ্ঠানে এমন বিভক্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল দড়ি কালবেলাকে বলেন, আমরা এই এলাকায় রাজনীতি করি মানুষের মঙ্গলের জন্য। কখনই বিভক্ত সৃষ্টি হোক এমনটি কামনা করিনা। একই মাঠে দুই প্যান্ডেলে ঈদের নামাজ আদায়ের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই এমন বিভক্তি থেকে সবাই বেড়িয়ে আসুক।

বিষয়টি নিয়ে হাওলাদার বংশের ও দড়ি বংশের মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু সাইদ ও মাওলানা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, আমরা মুসলমান হিসেবে ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়ে সচেতন না থাকলে আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষতি না হলেও আমাদের ধর্ম সম্পর্কে অন্য ধর্মের মানুষ ভুল বার্তা পাবে। তাই বংশগত বিভেদ থাকলে তা সমাধান করে নামাজের মত বিষয়ে একাত্মতা রাখা জরুরি।

দড়ি বংশের মতিউর রহমান দড়ি কালবেলাকে বলেন, গত রমাজনের ঈদ থেকেই হাওলাদাররা আলাদাভাবে নামাজ পড়া শুরু করে। তার ধারাবাহিকতায় এবারও তারা আলাদা প্যান্ডেলে নামাজ আদায় করেছেন। যদিও আমাদের মুরুব্বীরা সারাজীবন অন্তত ঈদের নামাজ এক জামায়াতে আদায় করে এসেছেন। তবে তাদের প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।

হাওলাদার বংশের শাহজাহান হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, গ্রামে দড়ি ও হাওলাদার বংশের লোকজনের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় গত ঈদুল ফিতর থেকেই আলাদা জামায়াতে নামাজ আদায় করা হচ্ছে। এর আগে আমরা এক সঙ্গেই ঈদের নামাজ আদায় করতাম। দড়ি বংশের লোকজন আমাদের বলেছিল, তাদের সঙ্গে নামাজ পড়তে। কিন্তু আমাদের লোকজন না মানায় ভিন্ন প্যান্ডেলে নামাজ আদায় করেছি। দড়ি বংশের প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।

জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। জাজিরার সকল স্থানে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। দড়ি কান্দির বিষয়টি নিয়ে আমি কিছুই জানি না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবেই: প্রধানমন্ত্রী

জোর করে গর্ভপাত করানোয় প্রেমিককে হত্যা

ভারত থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, দুজনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি

বিরোধী দলের এমপিদের আসনে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ

তরুণদের মাঝে ক্যানসার বৃদ্ধির ‘মূল কারণ’ আবিষ্কার

অটোরিকশাচালককে শ্বাসরোধে হত্যা

ডি-নথি চালু ও মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ দিলেন জবি উপাচার্য

ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়া ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’: চিফ প্রসিকিউটর

৩৩০ কোটি টাকার অবৈধ পণ্যসহ আটক ১০৪

১০

সুস্থ দেশ-জাতি গঠনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার বিকল্প নেই: অধ্যাপক ড. মজিবুল হক

১১

কার‍া খেলবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল জানাল সুপারকম্পিউটার

১২

নবম পে-স্কেল / সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পরিকল্পনা

১৩

নাকের নিচে আঁচড়ের দাগ দেখে হত্যাকারীকে শনাক্ত করে র‌্যাব

১৪

পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে লিড প্লাটিনাম সনদ পেল ম্যাট্রিক্স সোয়েটার্স লিমিটেড

১৫

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

১৬

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায়ে পদ ছাড়লেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ 

১৭

ট্রাম্পকে পরাজিত মানুষ বললেন বাইডেন, অভিযোগ তুললেন অযোগ্যতার

১৮

সুবিধাভোগীদের কবল থেকে মুক্ত করে জনগণের অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গড়াই লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

১৯

লেবাননের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল

২০
X