আসিফ পিনন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঘুটঘুটে অন্ধকারে কোটি টাকার মার্কেট

চট্টগ্রাম জেলা ম্যাপ। গ্রাফিক্স : কালবেলা
চট্টগ্রাম জেলা ম্যাপ। গ্রাফিক্স : কালবেলা

ঘুটঘুটে অন্ধকার, দোকানে দোকানে ঝুলছে তালা। পুরো ৯তলা ভবনের খোলা আছে কিছু দোকান, সেগুলোতেও মোববাতি জ্বালিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। সবার চোখে-মুখে হতাশা আর আতঙ্ক।

এমন চিত্র চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট এলাকায় জলসা মার্কেটের। সেখানে প্রায় ৭ শতাধিক দোকান আছে। গত চার দিন আগেও প্রতিদিন অন্তত কোটি টাকার লেনদেন চলত চট্টগ্রাম নগরের জলসা মার্কেটে। মার্কেট কমিটির গ্রুপিং আর চাঁদাবাজির কারণে এই মার্কেটে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে এসেছে বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের।

জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে বিস্ফোরণে মার্কেটের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে। এরপর সংগ্রহ করা একটি ট্রান্সফরমারে চলছিল ৯তলা ভবনে প্রায় ৭ শতাধিক দোকানের বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ। কিন্তু গত রোববার সেই ট্রান্সফরমারটি খুলে নিয়ে যায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবির) লোকজন। সেদিন থেকে মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মার্কেট সমিতির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে এখন হুমকির মুখে পড়েছে শত কোটি টাকার মার্কেট। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং মার্কেট পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মো. আবদুস সালাম মাসুমও একাধিকবার চেষ্টা করে বিরোধ নিরসন করতে পারেননি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুম কালবেলাকে বলেন, মার্কেটটি একটি অভিশপ্ত মার্কেট। বারবার সবাইকে ডেকেও বিষয়গুলো আমি সমাধান করতে পারিনি। মার্কেটের পরিচালক কে, মালিক কে এসবের কোনো ঠিক নেই। মার্কেটে মাফিয়া সিন্ডিকেট আছে। যারা মার্কেট ঘিরে বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। চোরাই বিদ্যুৎ লাইন দিচ্ছে। এগুলো নিয়ে যতবারই বৈঠকে বসেছি হট্টগোল হয়। এত বড় একটা মার্কেটের আয় ইনকামের সঙ্গে অনেক পরিবার জড়িত। তাদের কথা ভেবে কষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।

তবে এ বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলেননি ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জলসা শপিং কমপ্লেক্স বণিক কল্যাণ সমিতির প্যাডে সম্মিলিত কার্যকরী পরিষদ ও ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তে মার্কেটের তিনটি ফ্লোরে প্রতিটি ইউনিট থেকে ৮ জন করে মোট ২৪ জন বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। গেল এপ্রিলে কমিটির প্যাডে মার্কেটের ‘উন্নয়ন ফি’ বাবদ ১৫ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনটি ফ্লোরে ৬ শতাধিক দোকান রয়েছে। সেই হিসাবে সম্প্রতি ট্রান্সফরমার ঘিরে এ মার্কেটে প্রায় কোটি টাকার ‘চাঁদা’ ধার্য করে জলসা শপিং কমপ্লেক্স বণিক কল্যাণ সমিতি। এর অধীনে মার্কেটে সিসি ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম, বৈদ্যুতিক পাখা, ট্রান্সফরমার ও ঘর কেনার কথা রয়েছে। মূলত এই উন্নয়ন ফি ঘিরেই এখন মুখোমুখি অবস্থানে ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষ। এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন। এতে বিপত্তিতে পড়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

জলসা সুপার মার্কেটের সভাপতি সরওয়ার কামাল কালবেলাকে বলেন, কয়েক দিন আগে ট্রান্সফরমারটি এখানে ছিল সেটি খুলে নিয়ে গেছে। তাই মার্কেটে বিদ্যুৎ নেই। এটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলব। এখানে অনেক ঝামেলা আছে। আমি মাত্র তিনটি ফ্লোরের দায়িত্বে আছি। আমি তো পুরো মার্কেটের জবাবদিহিতা করতে পারব না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা

‘এমপি সাহেব হিসাব দাও’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর

যেসব খাবারে বাড়তে পারে অ্যাজমার সমস্যা

বিএনপির এক উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা 

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে ২৯ জনের মৃত্যু, দুর্ভোগে ২০ কোটি মানুষ

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

পোস্টার-শোডাউন এড়িয়ে যে অভিনব কৌশলে প্রচারণায় নেমেছেন জারা

ভোটকেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ : নাহিদ ইসলাম

সকালে খালি পেটে যে ৭ অভ্যাস শরীরের ক্ষতির কারণ

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১০

ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে চাকরির সুযোগ

১১

২৭ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১২

বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোয় সুযোগ পাওয়া স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

১৩

সুপার সিক্সে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ যারা

১৪

শাবিপ্রবিতে ভর্তি শুরু ৩ ফেব্রুয়ারি

১৫

সরিষা ফুলের হলুদ মোহ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

১৬

একীভূত হচ্ছে সরকারের ৬ প্রতিষ্ঠান

১৭

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ইইউবি’র মামলা

১৮

বিশ্বকাপে না থাকা বাংলাদেশের প্রতি যে বার্তা দিল স্কটল্যান্ড

১৯

দেশে মাদক সেবনকারী ৮২ লাখ, প্রায় ৬১ লাখই গাঁজাখোর

২০
X