স্যার বলে সম্বোধন না করায় মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ২০৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও সূর্যসেন হলের আবাসিক ছাত্র বলে জানা গেছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেকশন অফিসার (শিক্ষা-২)।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ওই শিক্ষার্থীর নামের বানানে ভুল থাকায় তিনি সংশোধনের জন্য প্রশাসনিক ভবনের ২০৮ নম্বর কক্ষে যান। ওই কর্মকর্তা বয়স্ক হওয়ায় তিনি তাকে কাকা বলে সম্বোধন করেন। এতেই ক্ষেপে যান ওই কর্মকর্তা। পরে নাম সংশোধনের জন্য কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে এমন অজুহাত দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীর কাজ তিনি করে দেননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ‘আমার নামের বানানে ভুল রয়েছে। নাম সংশোধনের জন্য আমি কাগজপত্র নিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে যাই। সকাল ৯টায় অফিস খুললেও আমি গিয়েছি সকাল সাড়ে ৯টায়। কিন্তু ওনাকে না পেয়ে ওই অফিস থেকে নম্বর নিয়ে ফোন দেই। পরে উনি আসতেছে বলে সকাল সাড়ে দশটায় আসেন। তখন তিনি আবেদনের সঙ্গে কিছু কাগজপত্র যুক্ত করে জমা দিতে বললেন। আমি যুক্ত করে জমা দেওয়ার জন্য সেখানে আবার গেলে ওনাকে আমি কাকা বলে সম্বোধন করি। কারণ, ওনার বয়স অনেক হওয়ায় ভাই বলা ইস্ততার ব্যাপার। কিন্তু এতে তিনি রেগে যান। তখন তিনি আমার কাছে কাকা বলার কারণ জানতে চাইলেন। তখন আমি ওনাকে বললাম তাহলে আপনাকে আমি কী বলে ডাকব। তখন তিনি তাকে স্যার বলতে বললেন। তখন আমি তাকে বললাম, আপনি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, আপনার বয়স বেশি হওয়ায় আপনাকে কাকা বলেছি। তখন পাশের ডেস্কের একজনও আমাদের সঙ্গে আক্রমনাত্মক ভাষায় কথা বলেন। তর্কের একপর্যায়ে আমি বললাম আমার কাজটা আপনি করে দেন। কিন্তু তিনি আমার কাজ করে দেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের সম্মান প্রদর্শন করে স্যার বলি। অন্য কাউকে সাধারণত স্যার বলি না। তা ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের আইনেও তাকে স্যার বলতে হবে এমন কোনো বাধ্যকতা নেই। তিনি আমাকে অপমান ও হয়রানি করেছেন। তিনি আমার কাজ করে দেননি। আমি এ বিষয়ে আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেকশন অফিসার বোরহান উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনে কারও সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি। ওই শিক্ষার্থী আমার কাছে আসছে। আমাকে অনেকবার কাকা বলে সম্বোধন করেছে। আমি বলেছি অফিসিয়াল ভাষা এটা নয়। তখন তিনি বললেন অফিসিয়াল ভাষা কোনটা। তখন ওনার পাশের টেবিলের একজন বলেছে তাহলে তুমি তাকে বোরহান বলে ডাকো। তখন তিনি বললেন সিনিয়র মানুষকে আমি বোরহান বলে ডাকব কেন। তখন কথার প্রসঙ্গে আমি বলেছি তাহলে বোরহান সাহেব অথবা স্যার বলে ডাকো। ওই শিক্ষার্থীর নাম সংশোধন করতে এফিডেভিট লাগবে। সেটা তার ছিল না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার কালবেলাকে বলেন, ‘আমি একটু আগে জেনেছি। আগে ওই শিক্ষার্থীর কাজটা হওয়া দরকার। সেজন্য আগামী রোববার প্রথমে তার কাজটা সম্পূর্ণ করার ব্যবস্থা করব। ওই কর্মকর্তাকে আমি ডাকব। তারপর যে ব্যবস্থা নেওয়ার আমি নিব।’
মন্তব্য করুন