কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৫, ০১:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পলিটেকনিক ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

পলিটেকনিক ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীকে কক্ষে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনসহ উলঙ্গ করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৮ মে) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া স্ট্যাটাসের পাশাপাশি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নিজেই, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‌‌‌‌‌‘আমি রাকিবুল ইসলাম, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। ১৮ মে ২০২৫ দুপুরে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী আমার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক করে এবং আমাকে বিভিন্নরকম হুমকি প্রদান করে। রাত ৯টার দিকে, ২৩-২৪ সেশনের ৮-১০ জন ছাত্র আমার রুমে ঢুকে আমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যায় এবং শারীরিক নির্যাতন করে। এরপর আমাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। তারা আমাকে সেই ছবি-ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং শঙ্কিত। আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছি।

নিজ আইডিতে দেওয়া ভিডিওতে ভুক্তভোগী রাকিব বলেন, আমি হলে থাকি, আমার পাশের রুমের ছাত্রদলের কিছু লোক আমাকে তাদের রুমে নিয়ে যায়। তারা আমাকে ছাত্রলীগের ব্লেম (দোষারোপ) দিয়ে মারধর করে, বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে, ঝাড়ু, লাঠি, ছুড়ি ও মদের বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেয় যে, আমি ছাত্রলীগ করতাম। তারা এ রকমও আমাকে হুমকি দেয় যে, আমাকে তারা মেরে ফেললেও কেউ এর বিচার করবে না। তারা পাশের রুম থেকে পিস্তল ও ছুড়ি আনার হুমকি দেয়। তারা বলে পিস্তল এনে আমার পায়ে গুলি করবে। একপর্যায়ে আমাকে জোরপূর্বক আমাকে উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করে।

অভিযুক্তরা হলেন, সৈকত (ইলেকট্রনিকস), স্বাধীন (ইলেকট্রিক্যাল), ফয়েজ (সিভিল), নাফিউর রহমান (ইলেকট্রনিকস), অনিক (ইলেকট্রনিকস), সচিন (ইলেকট্রিক্যাল), মুন্না (কম্পিউটার), মেহেদী (মেকানিক্যাল), নিজুম (মেকানিক্যাল)।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী একটি গণমাধ্যমকে জানান, নির্যাতনকারীদের হাতে প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাস ও হলে থাকা ছাত্ররা নির্যাতিত হচ্ছে। এরা সবাই আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন ছাত্রদলের নাম করে অত্যাচার করছে। এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। ইনস্টিটিউট প্রশাসন সবকিছু জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করছে।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহেলা পারভীন একটি গণমাধ্যমকে জানান, এ রকম একটা ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একই দলের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মামা-ভাগনে

নির্বাচিত হয়ে সরকারে গেলে সবার আগে শান্তি ফেরাব : মির্জা ফখরুল

বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

নির্বাচনে বিএনপিকে দুটি চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে : রবিউল আলম

ভোট চাইলেন জামায়াত আমিরের স্ত্রী

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য

নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

প্রাণ গেল ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর

আরও ১১ নেতাকে দুঃসংবাদ দিল বিএনপি

সুখবর পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান

১০

স্থায়ী পুনর্বাসন ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি আমিনুল হকের

১১

রবিনের ধানের শীষেই আস্থা সাধারণ ভোটারদের 

১২

হাদি হত্যা / ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল ফের রিমান্ডে 

১৩

বেকার সমস্যা সমাধানে বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে বিএনপি : মিন্টু

১৪

ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির আহ্বান হাবিবের

১৫

পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা উত্তর কোরিয়ার

১৬

‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়া এক জাদুকর মেসি’

১৭

সোহেল হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

১৮

আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় সেরা ৮-এ কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

১৯

নিজ দলের প্রার্থীকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা গণঅধিকারের নেতাকর্মীদের

২০
X