সপ্তমীর দিন সিলেটের কিছু মণ্ডপ ঘুরে এসেছেন অভিনেত্রী শানারেই দেবী শানু। সেখানে তার সমস্ত চৈতন্যকে স্পর্শ করেছে— শৈশবের দুর্গোৎসবের স্মৃতি। কালবেলার সঙ্গে আলাপে এমনটাই জানালেন ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ সিনেমার এই অভিনেত্রী।
সিলেটে সনাতন ধর্মবলম্বী অধ্যুষিত এলাকায় বেড়ে ওঠায় তার শৈশবের দুর্গোৎসব ছিল বেশ রঙিন। ইট-পাথরের জঞ্জালে ঠাসা এই রাজধানীতেও দুর্গা মা আসেন। কিন্তু উৎসবটা নামে খুব ধীরগতিতে। অভিনেত্রীর ছোটবেলায় মহালয়া থেকেই বয়ে যেত উৎসবের হাওয়া। শানু বললেন, সিলেটে আমার বেড়ে ওঠা, অনেক পরে ঢাকামুখি হয়েছি। তাই সিলেটকেন্দ্রিক দুর্গোৎসবই আমাকে সবসময় টানে, আনন্দ দেয়। কারণ, সেখানে মহালয়া থেকে পূজার আনন্দ শুরু হয়, পুরোপুরি সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এলাকা তো তাই। সিলেটে পূজার আমেজ মৌ-মৌ করে। তেমন আমেজ ঢাকায় যে একেবারেই মেলে না, তা নয়। এ শহরে দশমীর আগে কিছুটা পাই সেই আমেজ।
স্মৃতির ঝাঁপি উপুড় করে দিয়ে শানু বলেন, সিলেটে প্রতিমা তৈরির একটি কারখানার ছিল। বন্ধুদের নিয়ে প্রতিমা দেখতে যাওয়া, কোনটি কত সুন্দর হলো, কোন প্যান্ডেলের প্রতিমা কীভাবে হচ্ছে—এই বিষয়গুলো খুব নস্টালজিক। এই স্মৃতি আমাকে সব সময় টানে। এবার অনেক বছর পর সপ্তমীর দিনে সিলেটে ছিলাম। সেই প্যান্ডেলগুলো আমি ঘুরে এসেছি। সে এক অন্যরকম অনুভূতি।
এখন আর সেভাবে পরিকল্পনা করে পূজার আয়োজন সাজান না শানু। তবে দুর্গাপূজা এলেই বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া উপহার তাকে এখনো সেই শৈশব আনন্দই দেয়। বললেন, আত্মীয় ও বন্ধুদের থেকে বিভিন্ন উপহার পাই। পূজার শাড়িসহ নানা ধরনের উপহার মেলে। তাতেই আমার পূজার পোশাক অনুষঙ্গ হয়ে যায়। আমি নিজে শখ করে পূজায় কিছু কিনি না কয়েক বছর ধরে। এবারের পূজায়ও শাড়ি গিফট পেয়েছি।
পূজায় ভালো লাগা থেকে নিজের উদ্যোগে একটি বিশেষ শখ মেটান শানু। গত দুই- তিন বছর ধরেই মন্দিরের সামনে গিয়ে লাস্যময়ী ছবি তোলেন এই অভিনেত্রী। বললেন, গতবছর রমনা কালীমন্দিরের পূজার ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি তোলা হয়েছিল। এবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে কেন্দ্র করে তুলেছি।
নবমীতেও কিছু মন্দিরে ঘুরেছেন অভিনেত্রী। দশমীর পরিকল্পনার বিষয়ে বললেন, এই দিনটি ঘোরাঘুরি, নিমন্ত্রণ ও খাওয়ার ওপরেই কেটে যায়। সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই। এমনই হয় প্রতি বছর।
‘নাড়ু না দিলে বন্ধু কথা কইও না’—বাক্যটি শুনতেই শব্দ করে হেসে উঠলেন শানু। বললেন, ‘আমি কোনো বছরই নাড়ু বানানোর সময়-সুযোগ করে উঠতে পারি না। কিন্তু সন্দেশ ও নাড়ু যেহেতু পূজার বিশেষ খাবার, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বী ও কাছের মানুষদের কাছে আমিও এই নাড়ু ও সন্দেশ প্রত্যাশা করি। বন্ধুরা বায়না করে আমার রান্না খাওয়ার। কিন্তু দেখা যায়, আমিই তাদের বাসায় গিয়ে খাচ্ছি’।
আজকাল ‘থিম’ ধরে দুর্গাপূজা হয়। দুর্গোৎসবের সঙ্গে প্রযুক্তির এই মিতালীকে কীভাবে দেখছেন এই অভিনেত্রী? খানিক ভেবে শানু উত্তর দিলেন, সময়ের সাথে মানুষের জীবন আচরণ পাল্টে যাচ্ছে। সেই ভাবনা থেকে দুর্গা মায়ের প্রতিমাকে মানুষ বিভিন্ন রূপে দেখতে চায়। কিন্তু দুর্গা মায়ের যে শক্তির জায়গাটা লালন ও ধারণ করে আমরা শ্রদ্ধাভরে পূজা করতে যাই, সেই ভাবনার জায়গাটা একই আছে ও থাকবে। আমরা হয়তো রূপটাকে বিভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করছি। আমার ভাবনা, ভক্তি ও শ্রদ্ধার জায়গা কখনও পরিবর্তন হবে না।
দেবীর অপার শক্তিকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে চান এই অভিনেত্রী। বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি নারীর মধ্যেই দুর্গাশক্তি লুকায়িত আছে। এটা থাকে সব সময়। অন্ধকার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে মায়ের এই শক্তিটা প্রতিটা মানুষের অন্তরে থাকা জরুরি। সেই শক্তি আমি নিজের ভেতর ধারণ করতে চাই। এই প্রার্থনাই করি’।
মন্তব্য করুন