কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:০৬ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যে ৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন কিডনি ক্যানসারে ভুগছেন

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

কিডনি ক্যানসারকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ রোগটি শরীরে অনেকটা সময় সক্রিয় থাকলেও এর কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে ধরা পড়ে, তখন চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে কিডনি ক্যানসার চিকিৎসায় সাফল্যের হার অনেক বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে, যেগুলো অবহেলা করা বিপজ্জনক।

১. প্রস্রাবে রক্ত

কিডনি ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো প্রস্রাবে রক্ত আসা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় হেমেচুরিয়া। এ সময় প্রস্রাবের রং গোলাপি, লাল বা বাদামি হয়ে যায়। সাধারণত এটি ব্যথাহীনভাবে ঘটে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাই অনেকে গুরুত্ব দেন না। অথচ এটি সংক্রমণ বা কিডনিতে পাথরের কারণে হতে পারে, আবার ক্যানসারেরও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এমন হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

২. পিঠের নিচের দিকে বা পাশে ব্যথা

সাধারণ পিঠব্যথার সঙ্গে কিডনি ক্যানসারের ব্যথার মিল নেই। এ ক্ষেত্রে পিঠের নিচের দিকে বা পাশের অংশে (ফ্ল্যাংক) স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হয়। কোনো আঘাত ছাড়াই যদি এ ধরনের ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তবে তা কিডনির টিউমারের কারণে হতে পারে। বিশেষ করে মূত্রে রঙ পরিবর্তনের সঙ্গে এ ব্যথা দেখা দিলে পরীক্ষা করানো জরুরি।

৩. হঠাৎ ও অকারণে ওজন কমে যাওয়া

কোনো খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুত ওজন কমতে থাকলে তা হতে পারে কিডনি ক্যানসারের আরেকটি লক্ষণ। ক্যানসারের কারণে শরীরের বিপাকক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ক্ষুধা কমে যায় এবং শরীর শক্তি হারায়। এ লক্ষণ ক্লান্তি বা দুর্বলতার সঙ্গে মিলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. কিডনির আশপাশে চাকা বা ফোলাভাব

কিডনির পাশে বা পাঁজরের নিচে চাকা বা ফোলাভাব হলে সতর্ক হতে হবে। অনেক সময় নিজে থেকেই স্পর্শ করলে বোঝা যায়, আবার চিকিৎসকের নিয়মিত পরীক্ষায়ও ধরা পড়ে। হ্যাঁ সব চাকা ক্যানসার নয়, কিছু সিস্ট বা ফ্যাট জমার কারণে হতে পারে। তবে ক্যানসার হলে ওই চাকা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। তাই স্ক্যান বা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

৫. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কিডনি ক্যানসার রক্তকণিকা উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে অ্যানিমিয়া হয়। এতে রোগীরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করেন। বিশ্রাম বা সাধারণ যত্নের পরও যদি অবসাদ না কাটে, আর এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা প্রস্রাবে রক্তের মতো উপসর্গ থাকে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, কিডনি ক্যানসার প্রথম দিকে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপের ভেন্যুতে নিষিদ্ধ হলো পানির বোতল

নতুন চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার পেল বিএসইসি

একাকী অনুশীলন করছেন মেসি

বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মাসুদ খান

নেইমার নাকি ভিনি, ১০ নম্বর জার্সি কার

মার্কিন নাগরিককে ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী

বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করল অপ্টা

জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার / রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা ও নিজের পালিয়ে যাওয়ার বর্ণনায় যা জানালেন সোহেল

যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে বিভক্তি না করার আহ্বান ইরানের

১০

লেবাননের সঙ্গে শান্তিচুক্তির আশা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

১১

আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ

১২

বাবা ও দাদির কবরের ফুলগাছ চুরি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যুবকের

১৩

নয়াদিল্লির আগুনে বাংলাদেশি দুই পরিবারের ৯ সদস্য আহত

১৪

প্রেমিকার অভিমানে মোটরসাইকেলে আগুন, রহস্য খুঁজছে পুলিশ

১৫

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

১৬

কুয়েত বিমানবন্দরে হামলার দায় নিল না ইরান

১৭

আদালতে জবানবন্দিতে রামিসা ধর্ষণ-হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা ঘাতক সোহেলের

১৮

পাথর হতে পারে গলাতেও, অদ্ভুত এই সমস্যার লক্ষণ জানালেন চিকিৎসক

১৯

চট্টগ্রামে ওয়াসিম হত্যা : অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

২০
X