চালক সিগন্যাল অমান্য করায় ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) রেল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে চালকের গাফিলতির বাইরে দুর্ঘটনার পেছনে কোনো নাশকতা আছে কি না, তেমনি ট্রাফিক বিভাগের ত্রুটিসহ সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
দুর্ঘটনার পর আমরা সংশ্লিষ্ট তিনজনকে সাসপেন্ড করার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, মালবাহী ট্রেনের লোকোমাস্টারের অবহেলা বা অক্ষমতায় এ ঘটনা ঘটেছে।’ প্রাথমিক তদন্তে চালকের সিগন্যাল অমান্য করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহতদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা ও আহতদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের ঘোষণা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।’
মন্ত্রী বলেন, রেলের আইন সংশোধন করা হচ্ছে। আইনে রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করার কথা জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। মৃত্যুর ক্ষতি কোনোভাবেই পোষানো যায় না। তবুও সামান্য আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি বলে মনে করি। মূলত রেলের দুর্বলতার জন্য দুর্ঘটনার দায় আমরা কোনোভাবেই এড়াতে পারি না।
তিনি বলেন, সিঙ্গেল লাইনের কারণে রেল লাইনে ঝুঁকি থেকেই যাবে। ডাবল লাইন হয়ে গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে না। জনবল সংকট রেল দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনও রেল ২০ হাজার জনবল ঘাটতি আছে।
বেশিরভাগ ট্রেনচালকের অবসরের বয়স হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একজন চালক তৈরি করতে ৩-১২ বছর সময় লাগে। তাই অবসর নেওয়া ২৪ জনের সঙ্গে আমরা ট্রেন চালানোর জন্য চুক্তি করেছি।
তিনি বলেন, গত ২৩ অক্টোবর এ ঘটনায় রেল মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া আরো দুটি কমিটি গঠনের কথা জানান মন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী বলেন, আমরা দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমি রেলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার যে দুর্ঘটনা হয় সেখানে ২১ জন নিহত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর আবার একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটল। এ ঘটনায় মোট ২০ জন মারা গেছেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ১ জন, পঙ্গুতে ৬ জন, চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট হাসপাতালে ১ জন, রেল হাসপাতালে ১ জন এবং ভৈরবে ১ জনসহ মোট ১০ জন এই মুহূর্তে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বাকি অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। এরপর মন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখতে যান।
মন্তব্য করুন