সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের পাঁচ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণার পর এবার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরাও বিশেষ প্রণোদনার আবেদন জানিয়েছেন। বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির এক জরুরি সভা থেকে এ আবেদন জানানো হয়।
সোমবার (২৬ জুন) সংগঠনের সভাপতি মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের মহাসচিব ও সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহিদ খান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অংশ নিয়ে দুই বছর ধরে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বলা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে বারো লাখ সরকারি কর্মচারী চাকরিরত এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত এ সাড়ে সাত লাখ কর্মচারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী। তাদের ৯০ শতাংশ চরম আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন। এ বিপুলসংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখে সরকারের এসডিজিসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধামন্ত্রীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহুসংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রণোদনা সুবিধার বিষয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন। সভায় উপস্থিত সদস্যরা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের এ প্রণোদনার আওতায় আনার বিষয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সমিতিকে অনুরোধ জানান।
সমিতির সদস্যরা মনে করেন- প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা সুবিধাটি সাড়ে সাত লাখ সামরিক ও বেসামরিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী পেনশনারদের প্রতি সমভাবে প্রযোজ্য না হলে পেনশনারদের প্রতি বৈষম্য আরও বাড়বে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ প্রণোদনা সুবিধা দিতে প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
মন্তব্য করুন