বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাহাড়ে শান্তির জন্য চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

খাগড়াছড়ি। ছবি : সংগৃহীত
খাগড়াছড়ি। ছবি : সংগৃহীত

কদিন থেকে হঠাৎ অশান্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়। দুষ্কৃতকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কর্মকাণ্ডে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি স্বাভাবিক শান্তি হারিয়েছে। এ সহিংসতা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। এখনো পাহাড়ি জনপদ থমথমে। সম্প্রীতির বন্ধন যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য সবাইকে শান্ত থাকা উচিত।

চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪০ মিনিটে এক মারমা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রাতেই তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা খাগড়াছড়ি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরের দিন ২৪ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী সন্দেহভাজন শয়ন শীল (১৯) নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এখনো তার জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজনকে আইনের আওতায় আনা হলেও, একটি সংগঠন বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় খাগড়াছড়ি সদরের শাপলা চত্বরে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। একই দিন রাঙামাটিতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা আয়োজিত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইউপিডিএফ সমর্থিত উপজাতি ছাত্র-জনতার ব্যানারে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আধাবেলা হরতালের কর্মসূচি পালিত হয়। এদিন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খাগড়াছড়িগামী ৪টি বাস রাস্তা বন্ধ করে আটকে রাখে। একই দিন খাগড়াছড়ি সদর, গুইমারা, মানিকছড়ি, রামগড় ও দিঘীনালা উপজেলায় গাছের গুঁড়ি ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জুম্ম ছাত্র-জনতার উদ্যোগে ধর্ষণবিরোধী মহাসমাবেশ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে সহস্রাধিক জনতা জড়ো হয়। এদিন বেলা ১১টার পর সমাবেশ শুরু হলে আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশের পাশ দিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে আক্রমণ করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর একটা পিকআপ ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ৪ সেনাসদস্য আহত হন।

ধর্ষণের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও একটি সংগঠন পরিস্থিতি অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করে। সব বাহিনী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিবাদ বা কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি।কোনো কারণ ছাড়াই সেনাবাহিনীর গাড়ির ওপর আক্রমণ ও সেনাসদস্যদের আহত করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ইউপিডিএফের সমর্থনে খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ পালিত হয়। এ সময় সাজেকে দুই হাজারের মতো পর্যটক আটকা পড়েন, পরে রাতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তারা গন্তব্যে ফিরতে পারেন। সকাল থেকেই জেলার খাগড়াছড়ি সদর, গুইমারা, মানিকছড়ি, রামগড় ও দিঘীনালা উপজেলায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে জনজীবনে অশান্তি নেমে আসে।

পরে দুপুর ১টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের সামনের দোকানে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার আকস্মিকতায় বাঙালিরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে ৬০-৭০ বাঙালি সংঘবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে তারা নারানখিয়া এলাকায় অবস্থান নেয় এবং পরপর ৮-১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

এর মধ্যে দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসক ১৪৪ ধারা জারি করে; কিন্তু সহিংসতায় জড়িত দুপক্ষ এর তোয়াক্কা করে না। পরে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সহায়তায় সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অভিযোগ আছে একটি সংগঠন পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য শুরু থেকেই তৎপর রয়েছে। শুধু এবারই নয়, এর আগেও ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা দেখা গেছে।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশ সবার, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আবহমানকালের সংস্কৃতিও তাই বলে। আমরা সেই ঐতিহ্যকে হারাতে চাই না। চাই না ধর্ম ও সম্প্রদায় নিয়ে কলহ হোক। আমাদের চেতনা হোক-মানবতার, মানবিকতার ও সর্বজনীনতার। আমাদের ধরণিতল হোক কলঙ্কশূন্য। বাংলাদেশ নবচেতনায় জাগ্রত হোক।

কালবেলা/এনএএস/এমএইচ
[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ বুধবার

বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী  

থাইল্যান্ডে আন্তঃদেশীয় অপরাধ সম্মেলন শেষ, কর্মব্যস্ত সময় কাটালেন আইজিপি

রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরএফএল কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা, হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

নতুন বাংলাদেশ গড়তে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হাসনাত আব্দুল্লাহ

১০

‘রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে থেকে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে’

১১

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারিতে যে শাস্তি পেতে পারেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা

১২

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়তে চান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, দাবি ট্রাম্পের

১৩

হুতিদের হুমকির মুখে লোহিত সাগর থেকে ফিরে গেল ২ সৌদি জাহাজ

১৪

চুক্তি আগস্টে / এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

১৫

উন্নয়ন কোনো দলের নয়, জনগণের অধিকার: মান্নান

১৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাদের প্রার্থী হতে সুযোগ দেবে না ইসি

১৭

কুয়াকাটায় বসতবাড়ি থেকে পদ্ম গোখরা উদ্ধার

১৮

ইরানে হামলা না চালালে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

১৯

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের খাদ্য সহায়তা

২০
X