ড. বদিউল আলম মজুমদার
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৩, ০১:২৩ পিএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩, ০৫:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ড. বদিউল আলম মজুমদার

প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে কী বার্তা পেলাম

ড. বদিউল আলম মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত
ড. বদিউল আলম মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

গত ২৫ মে গাজীপুর এবং ১২ জুন খুলনা ও বরিশালে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। তথাকথিত নির্বাচনগুলো ছিল নিরুত্তাপ এবং প্রতিযোগিতাহীন। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এসব তথাকথিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তারা এটি বর্জন করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এককভাবেই এ তথাকথিত নির্বাচন করেছে অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে। দু-একটি দল নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের প্রভাব ও জনসমর্থন খুবই কম। বলতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এ তথাকথিত নির্বাচন কোনো অর্থই বহন করে না। তথাকথিত নির্বাচনগুলো অংশগ্রহণমূলক ছিল না। একজন তৃষ্ণার্তকে এক গ্লাস মিনারেল ওয়াটার আর এক গ্লাস ট্যাপের পানির মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে এটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে তিনি ট্যাপের পানি বেছে নেবেন না। একই ব্যক্তিকে এক গ্লাস ফোটানো পানি ও এক গ্লাস ট্যাপের পানির মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে আবারও তিনি ট্যাপের পানি নিতে রাজি হবেন না। ওই ব্যক্তিকে মিনারেল ওয়াটার ও ফোটানো পানি থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে তিনি ফোটানো পানিও বেছে নিতে পারেন, আবার মিনারেল ওয়াটারও বেছে নিতে পারেন। কারণ, দুটিই এক অপরের বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প।

তাই বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প থাকলেই তাদের মধ্য থেকে ‘ভোটারদের’ বেছে নেওয়ার বা ‘ইলেক্ট’ করার সুযোগ থাকে। আর তা না থাকলে ভোটারের ‘নির্বাচন’ করারই সুযোগ থাকে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তো প্রশ্নই ওঠে না। তাই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী না থাকার কারণে গাজীপুরের সিটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও তাকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বলা যায় না।

প্রশ্ন হলো বিএনপি এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি কেন? তারা বলছে, আগের নির্বাচনে খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে এবারে অংশ নেয়নি। গেল বার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের প্রার্থী ও কর্মীদের হয়রানি, গ্রেপ্তারের খবর সবার জানা। খুলনা ও বরিশালে প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্বাচনে বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করা হয়েছে। প্রচারণা চালাতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। একমাত্র সিলেটে বিএনপির প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন। সেটিও জোর করে নেওয়ার প্রচেষ্টা আমরা লক্ষ করেছি। সেখানেও কারচুপি হয়েছে, কিন্তু এত ভোট বিএনপির পক্ষে পড়েছে যে কারচুপি করেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিততে পারেনি।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন একই বিষয় নয়। সিটি নির্বাচনে সরকার বদল হয় না। তারপরও এখানে কারচুপি ও প্রার্থীদের প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয়নি। বিএনপির প্রার্থী না থাকলেও অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী যিনি বরিশালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তার ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন। সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেলেও এটি নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ কমিশনাররা এখানে ভোটার আনতে সহায়তা জুগিয়েছে।

শান্তিপূর্ণ ও নিরুত্তাপ ভোট হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি। এটিকে নির্বাচন বলা যাবে না। বরিশাল ছাড়া গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কারণ, সেগুলোয় প্রধান বিরোধী দল মনোনীত কোনো বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প প্রার্থী নেই। তাই সেগুলোয় জেতার জন্য ক্ষমতাসীনদের এবং তাদের অনুগত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরও বাড়াবাড়ি করতে হয়নি। বরিশালে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে গুরুতর বিভক্তি এবং সেখানে ইসলামী আন্দোলনের শক্ত প্রার্থী থাকার কারণে নির্বাচনে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। জাতীয় নির্বাচনে অবশ্য ভিন্ন হিসাব। কারণ, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার রদবদল হবে এবং এর সঙ্গে অনেক স্বার্থ, এমনকি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বের প্রশ্নও জড়িত। তাই সে নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রধান দলগুলোর মরিয়া হয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করাই স্বাভাবিক। তাই সেই নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে, সেই প্রশ্নটি জরুরি।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১১টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার সাতটি হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে এবং এর সবকটিই ছিল কমবেশি বিতর্কিত, যাতে ক্ষমতাসীনরাই ক্ষমতায় টিকে ছিল। পক্ষান্তরে, দলীয় সরকারের বাইরে অনুষ্ঠিত অন্য চারটি নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল এবং এর মাধ্যমে ক্ষমতার রদবদলও হয়েছিল। কারণ, এর মাধ্যমে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমসুযোগের সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণও তাদের রায় সুন্দরভাবে প্রদান করতে পেরেছিল।

ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চ্যাম্পিয়নস লিগেই ঘা শুকোল রিয়ালের

নির্বাচিত সরকারই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি: রবিউল

ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক / দেশ পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা জানাল বিএনপি

আর্কটিক ঠান্ডায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধরাশায়ী ম্যানসিটি

বোয়ালখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ঢাকায় গ্রেপ্তার

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারত

অঝোরে কাঁদলেন রুমিন ফারহানা, যা বললেন

মধ্যরাতে ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরের পোস্ট

চরমোনাই পীরের জন্য ভোট চেয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন জামায়াত প্রার্থী

ছাত্রদলের ১৫ নেতাকে অব্যাহতি

১০

স্টার নিউজের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু

১১

সিলেটে লাল-সবুজের বাসে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন তারেক রহমান

১২

ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের নতুন কমিটি ঘোষণা

১৩

আমি কোনো সাংবাদিককে থ্রেট দিতে চাই না : রাশেদ খান

১৪

ভোটারদের ‘ব্রেইন হ্যাক’ করার ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি

১৫

ইতালিতে ইসলামের পরিচিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লক্ষ্যে ‘ওপেন ডে’ পালন

১৬

কত আসনে নির্বাচন করবে জানাল ইসলামী আন্দোলন

১৭

তারেক রহমানের সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির

১৮

শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ

১৯

নির্বাচিত সরকারই স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি : রবিউল

২০
X