

২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো এক মাসের বেশি সময় বাকি। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের আগেই টুর্নামেন্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক জটিলতা। এবার আলোচনার কেন্দ্রে ভারতীয় ভিসা—বিশেষ করে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বা পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
বিশ্বকাপের আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। তবে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া ঘিরে উদ্বেগের কারণে ইতোমধ্যেই পাঁচটি অংশগ্রহণকারী দেশের ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)–এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তুলেছে বলে জানা গেছে।
জিও স্পোর্টস তাদের দেওয়া সূত্রের দাবি অনুসারী জানাচ্ছে এখন পর্যন্ত আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। একই সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো লিখিত আশ্বাস দেয়নি।
কারা পড়ছে অনিশ্চয়তায়
বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া কয়েকটি সহযোগী দেশের দলে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বা পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী একাধিক ক্রিকেটার রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইতালি, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র।
এই দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডগুলোর অভ্যন্তরীণ আলোচনায় একটি বিষয়ই ঘুরে ফিরে আসছে—আগের অভিজ্ঞতা। অতীতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ভারতীয় ভিসা পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যাদের হাতে সরাসরি পাকিস্তানি পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।
আইসিসির জন্য বড় পরীক্ষা
বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আইসিসির অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু এই ভিসা জটিলতা শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি টুর্নামেন্টের কাঠামো ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। বোর্ডগুলোর মতে, যদি শেষ মুহূর্তে কোনো খেলোয়াড় ভিসা না পান, তাহলে সেটি শুধু দলীয় ভারসাম্য নয়, পুরো প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করবে।
বিশ্বকাপ শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি, চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। ২০ দল নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে গ্রুপপর্ব শেষে সুপার এইট, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সূচি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত। কিন্তু মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি এখন বড় প্রশ্ন—সব দল কি সমান সুযোগ নিয়ে মাঠে নামতে পারবে?
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভিসা ইস্যু শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়; এটি আইসিসির জন্য একটি নীতিগত ও কূটনৈতিক পরীক্ষাও বটে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নের উত্তর যত দেরিতে আসবে, অনিশ্চয়তাও তত বাড়বে—আর সেই চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপরই।
মন্তব্য করুন