

ঘরে বারবার ইন্টারনেট স্লো হয়ে যাচ্ছে? হঠাৎ করেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে? অনেকেই ভাবেন, সমস্যা বুঝি সার্ভিস প্রোভাইডারের। অথচ বাস্তবে এর একটি খুব সাধারণ কারণ হতে পারে, ওয়াইফাই রাউটার ভুল জায়গায় রাখা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামূল্যবান ইন্টারনেট প্যাকেজ বা উন্নত মানের রাউটার ব্যবহার করলেও শুধু ভুল জায়গায় রাখার কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। কারণ, ভালো স্পিড পাওয়ার ক্ষেত্রে রাউটার বসানোর জায়গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন রাউটার রাখার জায়গা এত গুরুত্বপূর্ণ?
ওয়াইফাই সিগন্যাল চোখে দেখা যায় না। আমরা বুঝতেও পারি না, সিগন্যাল কীভাবে দেয়াল, মেঝে, আসবাবপত্র বা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, দূরত্ব, দেয়াল, ধাতব বস্তু ও অন্যান্য ডিভাইসের ম interference রাউটারের সিগন্যাল দুর্বল বা অনির্ভরযোগ্য করে তোলে।
রাউটার যদি এমন জায়গায় রাখা হয়, যেখানে সিগন্যাল চলাচলের জন্য অনুকূল পরিবেশ নেই—তাহলে ইন্টারনেট ধীর হবেই।
যেসব জায়গায় রাউটার রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়
১. টিভির পেছনে বা খুব কাছে
অনেকেই টিভির পাশে বা পেছনে রাউটার রাখেন। অথচ টিভির ধাতব প্লেট ও ভেতরের যন্ত্রাংশ ওয়াইফাই সিগন্যালের বড় শত্রু। এতে সিগন্যালের গতি ও স্থায়িত্ব দুইই কমে যায়।
২. আলমারি বা বন্ধ জায়গার ভেতর
রাউটার কখনোই আলমারি, বুকশেলফ বা কোনো বন্ধ জায়গার ভেতরে রাখা উচিত নয়। এসব বাধার কারণে সিগন্যাল ঠিকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না।
৩. তলায় বা অনেক দূরে
রাউটার যদি ঘরের অন্য তলায় থাকে, তাহলে সমস্যা আরও বাড়ে। কারণ ওয়াইফাই সিগন্যালের জন্য মেঝে, কার্পেট ও পানির পাইপলাইন অতিক্রম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৪. একাধিক রাউটার বা একই ফ্রিকোয়েন্সির ডিভাইসের পাশে
ঘরে থাকা ২.৪ গিগাহার্টজ বা ৫ গিগাহার্টজে কাজ করা অন্যান্য ডিভাইস এবং একাধিক রাউটার একে অপরের সিগন্যালকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাহলে রাউটার রাখার সবচেয়ে ভালো জায়গা কোনটি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের খোলা জায়গায় এবং কিছুটা উঁচু স্থানে রাউটার রাখা সবচেয়ে ভালো। ঘরের মাঝামাঝি কোনো জায়গা হলে আরও ভালো হয়, কারণ রাউটার চারদিকে সমানভাবে সিগন্যাল ছড়ায়।
রাউটার জানালা বা দরজার একদম কাছে রাখলে সমস্যা হয়, কারণ এতে অনেক সিগন্যাল ঘরের বাইরে চলে যায়। আর যদি রাউটারের অ্যান্টেনা ঘোরানো যায়, তাহলে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিকে সেট করে নিলে সিগন্যাল আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
শেষ কথা
ইন্টারনেট স্লো হওয়ার পেছনে সব সময় সার্ভিস প্রোভাইডার দায়ী, বিষয়টি আসলে এমন নয়। অনেক সময় রাউটার কোথায় রাখা হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাউটার রাখার জায়গায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই ইন্টারনেটের গতি ও স্থায়িত্বে বড় পার্থক্য পাওয়া সম্ভব।
সূত্র : জিও নিউজ উর্দু
মন্তব্য করুন