কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ফাঁদে পা দেবে না চীন

শি, পুতিন ও ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
শি, পুতিন ও ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

এক দেশ এক নীতিতে বিশ্বাসী চীন। শুধু এক নীতিই নয়, এক কথায় বিশ্বাসী দেশটি। আর তাই শি জিনপিংয়ের দেশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে পা দেবে না। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্র নিয়ে নতুন এক খেলা শুরু করেছেন। তিনি চাইছেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গণবিধ্বংসী অস্ত্র কমিয়ে ফেলুক চীন। কিন্তু চীনের ভাষায়, লেজ কাটা শেয়ালের সৌন্দর্যে বেইজিং মুগ্ধ তো নয়ই, এ নিয়ে ন্যূনতম আগ্রহও নেই তাদের।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরমাণু অস্ত্র আছে রাশিয়ার। স্নায়ুযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে টুকরো টুকরো হওয়ার পর বহু পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করা হয়। তারপরও পরমাণু অস্ত্রের নিরিখে রাশিয়াই শীর্ষে। এখন ট্রাম্প চাইছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করুক। তবে শুধু চিরশত্রু রাশিয়াই নয়, নিজের নতুন এই খেলায় চীনকেও টেনে আনতে চাইছেন তিনি। কিন্তু বেইজিং এত সহজে ধরা দেবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

কিছুদিন আগে ট্রাম্প জানান, তিনি রাশিয়া ও চীনকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আলোচনায় আনতে চান। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ একটি বড় লক্ষ্য। কিন্তু রাশিয়া এটা করতে রাজি আছে। আমি মনে করি চীনও এমন কিছু করতে রাজি হবে। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঘটতে দিতে পারি না। আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করতে হবে।

বিশ্বের মোট পরমাণু অস্ত্রের প্রায় ৯০ ভাগেরই মালিক স্নায়ুযুদ্ধের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিও ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে এ সংক্রান্ত সর্বশেষ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় রাশিয়া। এরই মধ্যে বিশ্বে নতুন আরেক দানবের উত্থান ঘটবে। অর্থনীতির পাওয়ার হাউস চীন নিজেকে সামরিকভাবেও শক্তিশালী করে তুলছে। তাই পরমাণু অস্ত্র বাড়াচ্ছে দেশটি।

ঠিক এমন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প চীনকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে নিয়ে আসতে চাইলেন। অবশ্য এ ব্যাপারে গেল বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, এটা মোটেও যৌক্তিক বা বাস্তবসম্মত নয়। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন তিনি। জিয়াকুন বলেন, পারমাণবিক সক্ষমতার দিক দিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মোটেও সমকক্ষ নয়।

বর্তমানে বিশ্বে ৯টি দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ২০২৪ সালের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ হাজার ৭০৮টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। রাশিয়ার আছে ৪ হাজার ৪৮০টি পরমাণু ওয়ারহেড। চীনের পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ৫০০, যা আগের বছরের তুলনায় ৯০টি বেশি। এরপরই রয়েছে ফ্রান্সের ২৯০টি ও ব্রিটনের ২২৫টি ওয়ারহেড।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের কথা বলা হবে : সালাহউদ্দিন

ঢাকা-১০ আসনে শিক্ষা ও নিরাপত্তার নতুন অঙ্গীকার রবিউলের

শীতে মুখ ঢেকে নামাজ পড়া কি জায়েজ, যা বলছে ইসলাম

সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন মহার্ঘ ভাতা

উত্তাল চুয়াডাঙ্গা

দীর্ঘ ৯ মাস অনুপস্থিত, প্রকৌশলীকে খুঁজতে থানায় জিডি

ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু : পাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ

গণভোট নিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ

রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে আগুনের রহস্য উন্মোচন

১০

গাইবান্ধায় নিয়োগ পরীক্ষা জালিয়াতি, রিমান্ডে ২৬ আসামি 

১১

বিএনপির ৫ নেতা সদস্যপদ ফিরে পেলেন

১২

শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে ফের দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

১৩

জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় ক্ষমা চাইলেন মঞ্জু

১৪

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে : অর্থ উপদেষ্টা

১৫

ঢাকায় ‘বিশ্ব আল-কুদস সপ্তাহ’ শুরু

১৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ট্যাটো’ সোহেল গ্রেপ্তার

১৭

শফিকুল ইসলাম মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার

১৮

একরামুজ্জামানকে সুখবর দিল বিএনপি

১৯

বাংলাদেশকে অবস্থান পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

২০
X