কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইসরায়েলকে শায়েস্তা করতে পুতিনের কঠিন সিদ্ধান্ত!

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

কথায় আছে ঘুমন্ত সিংহকে জাগাতে নেই। কিন্ত ইসরায়েল যেন সেই কাজটিই করেছে। তারা ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে যেন ঘুমন্ত সিংহকে জাগিয়ে তুলেছে। ইসরায়েল এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর এবার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মূলত, ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আটটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম কিনেছিল ইসরায়েল। এই সিস্টেমগুলোর সবই এম ৯০১ পিএসি-২ ব্যাটারি মডেলের। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, পুরোনো হয়ে যাওয়ায় এই সমরাস্ত্রগুলো তারা আর ব্যবহার করবে না। এগুলোর স্থানে আনা হবে নতুন আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

ইসরায়েলের এই ঘোষণার পর পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেমগুলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেওয়ার অনুরোধ জানায় কিয়েভ। এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্প্রতি কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে।

এরপর পরই জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইউক্রেনে যেই যত শক্তিশালী অস্ত্র পাঠাক না কেন তা ধ্বংস করা হবে। গত দুই বছরে ইউক্রেনে অনেক শক্তিশালী অস্ত্র পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। সেগুলোর প্রায় সবই ধ্বংস করা হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে কোনো নতুন রাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দেয়, সেক্ষেত্রে তার পরিণতি হবে গুরুতর।

রুশ দূতের এই কড়া বার্তার পর এবার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৮৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ঐতিহাসিক একটি চুক্তি করেছিলেন।

ওই চুক্তি অনুযায়ী ৫০০-৫৫০০ কিলোমিটার মাত্রার স্থল থেকে নিক্ষেপযোগ্য পরমাণু বোমা বা প্রচলিত মিসাইল ছোড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি বা আইএনএফ নামে পরিচিত। তবে ২০১৯ সালে রাশিয়ার ওপর চুক্তি ভঙ্গের দায় চাপিয়ে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

এই অবস্থায় পুতিন নিষিদ্ধ ঘোষিত মাঝারি পাল্লার সেই মিসাইলের উৎপাদন শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। গত শুক্রবার (৫ জুলাই) রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমাদের এই স্ট্রাইক সিস্টেমগুলোর উৎপাদন শুরু করতে হবে এবং তারপর প্রকৃত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন হলে - কোথায় স্থাপন করা হবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইসরায়েলকে শায়েস্তা করতে পুতিন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চিলিতে জরুরি অবস্থা / ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১৮, বাস্তুচ্যুত ২০ হাজার মানুষ

জানুয়ারির ১৭ দিনে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি যে ৮ ব্যাংকে 

এলপিজি নিয়ে সুখবর দিল সরকার

পরিত্যক্ত ভবনে ৬ মরদেহ, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল সিরিয়াল কিলার

সিরিয়া সরকার ও এসডিএফের যুদ্ধবিরতি চুক্তি

পাকিস্তান পয়েন্টে চা খেয়ে ফেরা হলো না ২ ভাইয়ের 

দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : নুরুদ্দিন অপু

জেআইসিতে গুম-নির্যাতন / শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

উচ্চ রক্তচাপে লবণ একেবারে বাদ? শরীরে হতে পারে যে সমস্যাগুলো

বিচ্ছেদের পর সুখবর দিলেন তাহসান খান

১০

বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুযোগ হারাল আর্সেনাল

১১

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা

১২

সকাল থেকে টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৩

পরিত্যক্ত ভবনে রহস্যজনক মৃত্যু, ঝলসানো ২ মরদেহ উদ্ধার

১৪

সাইকেল চালানো শিখিয়েই আয় করলেন ৪৭ লাখ টাকা

১৫

চোখ ভালো আছে তো? যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

১৬

‘নাটকীয়’ ফাইনালে মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল

১৭

ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপের ৮ দেশ

১৮

দিল্লি-লাহোরের বায়ুদূষণ ভয়াবহ, ঢাকার খবর কী

১৯

গণভোট জনগণের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত : নুরুদ্দিন অপু

২০
X