

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি হাইস্পিড ট্রেনের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১২২ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জরুরি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৪৮ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এটি ২০১৩ সালের পর দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে কর্ডোবা প্রদেশের আদামুস শহরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এলাকাটিতে একটি দ্রুতগামী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রয়টার্সের ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, ফ্লাডলাইটের আলোয় উল্টে পড়ে থাকা ট্রেনের বগিগুলো মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। অনেক যাত্রী ভাঙা জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন, আবার অনেককে স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ হয়েছে এবং তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তিনি উদ্ধারকর্মীদের কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত রেল অপারেটর রেনফের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরিও ও আলভিয়া পরিচালিত দুটি ট্রেনে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিলেন। অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন স্প্যানিশ নাগরিক, যারা সপ্তাহান্ত শেষে মাদ্রিদে যাতায়াত করছিলেন। কম পর্যটন মৌসুম হওয়ায় ট্রেনে কতজন পর্যটক ছিলেন, তা স্পষ্ট জানা যায়নি।
এর আগে ২০১৩ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলায় একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হন। এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় রেল দুর্ঘটনা।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে কর্ডোবা, সেভিল ও গ্রানাডাসহ ২০০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিই। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সোমবারের জন্য নির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করেছেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি বলে রোববার রাতে মাদ্রিদের আতোকা স্টেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান পরিবহনমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন