কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩, ০৫:১৮ এএম
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৩, ০৫:২৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ

চাঁদা তুলে লটারির টিকিট কিনে একসঙ্গে কোটিপতি ১১ নারী

টিকিট কেটে কোটিপতি তারা। ছবি : সংগৃহীত
টিকিট কেটে কোটিপতি তারা। ছবি : সংগৃহীত

ভাগ্যের চাকা কার কখন ঘুরে যায় কেউ বলতে পারে না। প্রচলিত এই কথার এবার বাস্তব চিত্র দেখা গেল প্রতিবেশী দেশ ভারতে। বলছি ভারতের কেরালার একটি পৌরসভায় সামান্য বেতনের কাজ করা ১১ জন নারীর গল্প।

পর পর তিনবার লটারির টিকিট কিনেও ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। তবুও আশায় বুক বেঁধেছিলেন তারা। চতুর্থবার সবাই মিলে চাঁদা দিয়ে ২৫০ রুপি খরচ করে কিনেছিলেন বাম্পার লটারির টিকিট। আর তাতেই রাতারাতি ভাগ্য বদলে গেল সবার। সেই টিকিটেই উঠল প্রথম পুরস্কার। পৌরসভায় সামান্য বেতনের কাজ করা ১১ জন নারী পেয়ে গেলেন ১০ কোটি রুপি।

আরও পড়ুন: ১৮ বছর ‘ঘুমিয়ে আছেন’ সৌদি রাজপুত্র

কেরালার মলপ্পুরমের পারাপ্পানগাডি পৌরসভায় ‘হরিৎ কর্ম সেনা’ প্রকল্পে কাজ করেন মোট ৫৭ জন নারী। সামান্য বেতনে কোনো রকমে চলে সংসার। কিন্তু সুদিন ফেরানোর প্রবল ইচ্ছে ছিল তাদের।

কিন্তু লটারির টিকিটের যে বাজার মূল্য, তা একা কারও পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। তাই নিজেরা চাঁদা দিয়ে একটি করে লটারির টিকিট কিনেছিলেন তারা। কিন্তু তিনবার চাঁদা তুলে লটারির টিকিট কিনলেও ওঠেনি কোনো পুরস্কার। তবুও থেমে থাকেনি তারা। আরও টিকিট কেনার কথা মনস্থির করলেন দলের ১১ জন নারী।

ঠিক যেমন ভাবা, তেমন কাজ। ২৫ রুপি করে দেন ৯ জন নারী। বাকি দুজন দেন সাড়ে ১২ রুপি করে। জমানো সেই ২৫০ রুপি দিয়ে তারা কিনে ফেলেন ‘মনসুন বাম্পার লটারির’ কাঙ্ক্ষিত একটি টিকিট। কিন্তু সেই এক টিকিটেই যে পুরস্কার উঠবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি রাধা, চন্দ্রিকা, বিন্দু, বেবিরা।

পারাপ্পানগাডির বাসিন্দা পার্বতী ওই ১১ জনের অন্যতম। তিনি জানান, একেবারেই পুরস্কার পাওয়ার কথা আশা করেননি। কারণ এর আগে তিনবার টাকা খরচ করেও পুরস্কার জোটেনি। এবার টিকিট কেনার পর শুনতে পান পালাক্কডের কোনো এজেন্সি থেকে নাকি প্রথম পুরস্কার উঠেছে। ফলে এবারও যে হল না তা বুঝে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফিরতেই পার্বতী শুনেন ভিন্ন খবর।

পুরস্কার পাওয়ার গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলে ছেলে জানায়, একটি ফোন এসেছিল। তাতে টিকিটের নম্বর জানিয়ে বলা হয় সেই টিকিটটি আমি কিনেছি কিনা। কারণ, সেই টিকিটেই পুরস্কার উঠেছে।’

এ ছাড়া লটারির টাকা ভাগ করা নিয়ে পার্বতীরা জানিয়েছেন, সবাই যখন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দিয়ে টিকিট কেনা হয়েছে, তখন পুরস্কারের টাকারও সমান ভাগ হবে।

কিন্তু কী করবেন পুরস্কারের টাকা দিয়ে? এমন প্রশ্নে তারা জানান, ‘ওই টাকাটা পেলে প্রথমে বাড়িটা মেরামত করব। তারপর বাচ্চাদের পড়াশোনার পেছনে খরচ। যা ধারদেনা আছে, সেটাও শোধ করব।’

লটারির টিকিটটি নিয়ে স্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে গিয়েছিলেন পার্বতীরা। সেখান থেকেই টাকা অনুমোদন হবে। নিয়মানুযায়ী করবাবদ কিছুটা অংশ কেটে তা তুলে দেওয়া হবে পুরস্কার প্রাপকদের হাতে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গোসল করতে পুকুরে নেমে প্রাণ গেল ২ বোনের

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, ইব্রাহিমোভিচের মতে বিশ্বকাপ জিততে পারে যে দল

বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘একশো’ -এর যাত্রা শুরু

বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

হিজাব ছাড়া গান, ইরানি গায়িকাকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ

নজরুলের গানে মুখর বারহাট্টা, ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ শতবর্ষে দিনব্যাপী কর্মশালা

শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিকৃতি অবমাননার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ

লিবিয়া উপকূলে ভেসে এলো ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

ফরিদপুরে জিয়াউর রহমানের খনন করা খালে বাঁধ, বিপাকে কয়েক হাজার কৃষক

বাবা দিবসের বিশেষ নাটক ‘বাবার ডায়েরি’

১০

ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে করা যাবে যেসব কাজ

১১

বিয়ের ৬ মাস পার না হতেই লাশ হয়ে ফিরলেন কাজল রেখা

১২

ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন বাস্তবতা নিয়ে ‘১২তম ডিজিটাল সামিট’ অনুষ্ঠিত

১৩

গৃহকর্মীকে হত্যা, স্ত্রীসহ পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রিমান্ডে

১৪

বিশ্বকাপের মাঝে অবসর ভেঙে ফিরলেন রোনালদিনহো

১৫

‘এই লড়াইয়ে যদি আপনাদের পতন হয়, আমাদের কিছু করার থাকবে না’

১৬

জুলাই-আগস্টের বিচারে ধীরগতি, আলামত নষ্ট হতে পারে : শিশির মনির

১৭

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান 

১৮

বিশ্বকাপের মঞ্চে ছেলের জোড়া গোল দেখে কাঁদলেন মা

১৯

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে মাটি লুট, সমাধানে ‘বৃষ্টির অপেক্ষায়’ ইউএনও!

২০
X