কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নারীর শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য যৌন হয়রানির শামিল : কেরালা হাইকোর্ট

ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

নারীর শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করাও যৌন হয়রানির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে রায় দিয়েছেন ভারতের কেরালা হাইকোর্ট। এই রায় নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (০৬ জানুয়ারি) কেরালা হাইকোর্টের বিচারক এ. বদরুদ্দীন এ রায় দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়, কোনো নারীর ‘শারীরিক গঠন’ নিয়ে মন্তব্য যৌন হয়রানির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কী ঘটেছিল?

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরালা স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের এক পুরুষ কর্মচারীর বিরুদ্ধে তার নারী সহকর্মী অভিযোগ করেন, ২০১৩ সাল থেকে তিনি নিয়মিত অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছেন। ২০১৬-১৭ সাল থেকে অভিযুক্ত তাকে অশালীন বার্তা পাঠানো এবং ফোনকল করা শুরু করেন। ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি কর্মস্থল এবং পুলিশের কাছে জানালেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কার্যক্রম বন্ধ করেননি।

অভিযুক্তের বক্তব্য

যখন এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি হাইকোর্টে আবেদন করেন মামলাটি খারিজ করার জন্য। তিনি দাবি করেন, কোনো নারীর শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করা যৌন হয়রানির শামিল নয় এবং এটি ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ

মামলায় ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে টানা কয়েক বছর ধরে হয়রানি করেছেন। তিনি কেবল মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি, বরং ফোনকল এবং বার্তার মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত জীবনে বারবার হস্তক্ষেপ করেছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

মামলার বিষয় আদালত পর্যবেক্ষণের পর বিচারক বলেন, অভিযুক্তের এই আচরণ প্রাথমিকভাবে যৌন হয়রানির শামিল। রায়ে উল্লেখ করা হয়, নারীর শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করাও শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করার শামিল, যা সমাজে নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে।

আদালতের রায়

কেরালা হাইকোর্টের বিচারক এ বদরুদ্দীন তার রায়ে বলেন, নারীর শারীরিক গঠন নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করা যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য হবে। এটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪(এ) ও ৫০৯ ধারার পাশাপাশি কেরালা পুলিশ আইনের ১২০(ও) ধারার আওতায় অপরাধ। বিচারক আরও বলেন, এমন মন্তব্য একজন নারীর সম্মান ও মর্যাদা লঙ্ঘন করে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

রায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেরালা হাইকোর্টের এই রায় নারীদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এটি সমাজে নারীর মর্যাদা রক্ষা এবং হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রুয়েট ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার, আসনপ্রতি লড়বে কত জন?

মাইক্রোওয়েভে খাবারের গন্ধ নিয়ে বিরোধ, দুই ভারতীয় শিক্ষার্থীর পোয়াবারো

ইসলামে পাত্রী দেখা / কনের কোন কোন অঙ্গ দেখা যায়, বরের সঙ্গী থাকবে কারা?

নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত বগুড়ার সাগর ইসলামের ‘নো ডাইস’

বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন বাড়ছে প্রায় আড়াই গুণ

আসছে মন্টু পাইলট-৩

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে হবে : দুলু

ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল

রিশাদের জন্য সুখবর!

১০

সুখবর পেলেন বিএনপির আরেক নেতা

১১

বিয়ে নিয়ে যা বললেন সুনেহরাহ

১২

নিয়ম যখন নিয়ম ভাঙার লাইসেন্স হয়ে ওঠে

১৩

যে কারণে দাভোস সম্মেলনে সানগ্লাস পরে বক্তব্য দিলেন মাখোঁ

১৪

শাবিপ্রবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের

১৫

শিবির নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল 

১৬

গণভোট নিয়ে অবস্থান জানাল বিএনপি

১৭

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত নির্ধারণ করল কমিশন?

১৮

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন ও ছুটি নির্ধারণ করে দিল সরকার

১৯

রোগীদের সুস্থতায় নার্সদের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ : মেয়র শাহাদাত

২০
X