কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫, ০১:৪২ পিএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৫, ০১:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে এক হাত নিলেন সোনিয়া গান্ধী, ছাড়লেন না মোদি সরকারকেও

সোনিয়া, ট্রাম্প, মোদি ও নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
সোনিয়া, ট্রাম্প, মোদি ও নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

ইরানি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে ‘অবৈধ এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা করেছেন ভারতের রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক উপ-সম্পাদকীয়তে শ্রীমতি গান্ধী ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করেন।

সোনিয়া গান্ধী তার লেখায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র নিন্দা করেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীরবতায় উষ্মা প্রকাশ করেন।

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী লিখেছেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান শত্রুতায় ভারতের নীরবতা কেবল কূটনৈতিক ত্রুটিই নয়; বরং ভারতের ‘নৈতিক ও কৌশলগত ঐতিহ্য’ থেকে বিচ্যুতি।

তিনি লেখেন, ইরানের মাটিতে এই বোমা হামলা এবং টার্গেট করে শীর্ষ নেতাদের হত্যার নিন্দা জানিয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। ইসরায়েলের কাজ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে মারাত্মক পরিণতিসহ একটি বিপজ্জনক বৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করে। গাজায় নৃশংস ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযানসহ ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অনেক কর্মকাণ্ডের মতো এ অভিযানটিও বেসামরিক জীবন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিচালিত হয়েছে। এই কর্মকাণ্ডগুলো কেবল অস্থিতিশীলতাকে আরও গভীর করবে এবং আরও সংঘাতের বীজ বপন করবে।

সোনিয়া লেখেন, ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী ইতজাক রবিনের হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক শান্তি উদ্যোগগুলো সমাপ্ত হয়। আর নেতানিয়াহু ঘৃণার আগুনকে আরও উসকে দিতে সাহায্য করছেন।

শ্রীমতি গান্ধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাও করেন। তিনি লেখেন, ‘ট্রাম্প পূর্বে অন্তহীন যুদ্ধ এবং সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন। তবুও তিনি এখন একই ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি করছেন বলে মনে হচ্ছে। আরেকটি ইরাক যুদ্ধের দিকে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিচালিত করছেন।’ ২০০৩ সালে ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগের উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গ টানেন গান্ধী। পরে ইরাক পতনের পর জানা যায়, এমন কোনো অস্ত্র ইরাকে ছিল না।

তিনি লেখেন, ইরান ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং গভীর সভ্যতার বন্ধনে আবদ্ধ। জম্মু ও কাশ্মীরসহ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাদের অবিচল সমর্থনের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৪ সালে ইরান কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে ভারতের সমালোচনামূলক একটি প্রস্তাব আটকাতে সাহায্য করেছিল। প্রকৃতপক্ষে ইরানের সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকেছিল। তার তুলনায় ভারতের সঙ্গে অনেক বেশি সহযোগিতাপূর্ণ আছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।

গান্ধী তার বক্তব্য শেষ করেন ভারত সরকারের প্রতি এই অঞ্চলে তার কূটনৈতিক ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আবেদনের মাধ্যমে। তিনি ভারতকে স্পষ্টভাবে কথা বলতে, দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনে অবদান রাখতে তাগিদ দেন। সোনিয়া গান্ধী মনে করেন, বিবদমান পক্ষকে সংলাপে আনার জন্য ভারত সরকারের কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করা উচিত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: ইরানে ইসরায়েলের হামলা
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২ আসনে নির্বাচন স্থগিত যে কারণে

ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা পাঠাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট না : মির্জা ফখরুল

জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

শীত এলেই কদর বাড়ে ফুটপাতের পিঠার

অপারেশন থিয়েটারের ভেতর চুলা, রান্না করছেন নার্সরা

দুটি আসনে নির্বাচন স্থগিত

৯ জানুয়ারি : ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

গভীর রাতে দুর্ঘটনায় নেভী সদস্যসহ নিহত ৩

বেকারত্বে জর্জরিত বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ

১০

আজ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা 

১১

ঘন কুয়াশায় এক্সপ্রেসওয়েতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে যাত্রী নিহত

১২

কেরানীগঞ্জে শীতের পিঠামেলা

১৩

কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দিল ইরানিরা

১৪

আজ ঢাকার আবহাওয়া যেমন থাকবে

১৫

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৬

তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

১৭

ইতালিতে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে

১৮

সেনাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ, সিরিয়ায় কারফিউ জারি

১৯

৯ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

২০
X