কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৫:১০ পিএম
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৭:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যুদ্ধের মাঝে ‘বেঁচে থাকাটাই’ ফিলিস্তিনিদের ঈদ আনন্দ

স্বজনদের কবরের পাশে একটি ফিলিস্তিনি পরিবার। ছবি : সংগৃহীত
স্বজনদের কবরের পাশে একটি ফিলিস্তিনি পরিবার। ছবি : সংগৃহীত

মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে, তবে অন্যান্য দেশের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে না ফিলিস্তিনিরা। এবারও গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ঈদ উদযাপন করবে। তবে, এই ঈদ তাদের কাছে আলাদা—তারা স্বজনদের লাশ কাঁধে বয়ে ঈদ উদযাপন করবে, এমনকি অনেকের কাছে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে, ফিলিস্তিনিদের জন্য ঈদের আনন্দ কতটুকু থাকবে, সেই প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

এদিকে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ঈদ উপলক্ষে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না। ফলে ফিলিস্তিনিরা ঈদ উদযাপনে আর কিছু ভাবতে পারছে না।

ঈদে সাধারণত যে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়, সেই খাওয়ার চিন্তা এখন ফিলিস্তিনিদের জন্য অবাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজার খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্য উপকরণ থাকলেও সেগুলো রান্না করার পরিস্থিতি নেই। গাজায় বিদ্যুৎ বন্ধ, জ্বালানি সংকট এবং যুদ্ধের কারণে কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার ফলে খাবার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঈদের সকালে ফিলিস্তিনিরা ঐতিহ্যবাহী সুম্মাকিয়া রান্না করে থাকে—যেখানে ভেড়ার মাংস, গরুর মাংস, তিল, ছোলা এবং শাক দিয়ে একটি বিশেষ ঝোল তৈরি করা হয়। তবে এই খাবারটি তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এখন গাজার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

যখন তাদের মাতৃভূমি থেকে নির্মূল হওয়ার চেষ্টা চলছে, তখন ফিলিস্তিনিরা তাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। প্রতিদিনই তারা তাদের স্বজনদের জীবনের নিরাপত্তা হারাতে দেখছে। তারপরও, এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।

ঈদের দিন, গাজার ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো অনেক কষ্টের মধ্যে তাদের ছোট ছোট সন্তানদের জন্য ঈদের আনন্দ তৈরি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু, অধিকাংশ শিশু এক বেলা খেয়েই ঈদের দিন কাটাবে। খাদ্য সংকট এবং যুদ্ধের কারণে তাদের আনন্দের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধু বেঁচে থাকা, আর তাই তাদের জন্য এবারের ঈদ কোনো প্রীতিভোজ নয়, বরং জীবন বাঁচানোর এবং শোক প্রকাশের দিন।

সূত্র : আল জাজিরা

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ দলীয় জোট ৪৭ আসনে প্রার্থী দেয়নি যে কারণে

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন আজ

কেন ১৪৭০৭ কোটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মেসি?

প্রার্থিতা পাননি মাহমুদা মিতু, যা বললেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নির্বাচন / ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ, তদারকিতে কমিটি

খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই আগামীর রাষ্ট্র বিনির্মাণ করবে বিএনপি : রবিন

প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি, যা জানাল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

ঢাকায় শিক্ষিকার বাসা থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

যেসব আসন পেয়েছে এনসিপি 

শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরছে বিপিএল

১০

মুঠোফোনে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ কোয়াব সভাপতি মিঠুনের

১১

জাইমা রহমানের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আইডির তথ্য জানাল বিএনপি

১২

যে ২০ আসন পেল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

১৩

ভিসা নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের বিষয়ে কী করবে সরকার, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা

১৪

ঢাকার রামপুরা ও ময়মনসিংহে মি. ডিআইওয়াইয়ের দুটি স্টোর উদ্বোধন

১৫

রূপায়ণ গ্রুপের অ্যানুয়াল বিজনেস প্ল্যান (এবিপি) ২০২৬ হস্তান্তর

১৬

রমজানের আগেই এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

১৭

বিইউবিটিতে স্প্রিং সেশনের নবীনবরণ অনুষ্ঠান

১৮

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও আরএসএ অ্যাডভাইজরির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

১৯

প্রবাসীর বাসায় পোস্টাল ব্যালট গণনার বিষয়টি সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে : নুরুদ্দিন অপু ‎ ‎

২০
X