কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল সিরিয়া

সিরিয়ার পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়ার পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ডিক্রি জারি করেছেন। এই ডিক্রির মাধ্যমে কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় ভাষা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং সব কুর্দি সিরীয় নাগরিকের নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এই ডিক্রি জারি করা হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার পরে এ স্বীকৃতি মিলেছে। দেশটিতে এ সহিংসতায় শহরের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত দুটি এলাকা থেকে কয়েক ১০ হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে কুর্দি যোদ্ধারা এলাকা ছেড়ে দিলে এবং সিরীয় সেনাবাহিনী আলেপ্পো প্রদেশের দেইর হাফের শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলে সংঘর্ষের অবসান ঘটে।

১৪ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আল-শারা একক নেতৃত্বের অধীনে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে আলেপ্পোর সাম্প্রতিক সহিংসতা সিরিয়ার অন্যতম বড় বিভাজন রেখাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, নতুন ডিক্রির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কুর্দি সিরীয়দের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এতে কুর্দি পরিচয়কে সিরিয়ার জাতীয় কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আরবি ভাষার পাশাপাশি কুর্দি ভাষাকেও জাতীয় ভাষা ঘোষণা করা হয়েছে এবং স্কুলে কুর্দি ভাষা শিক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে পরিচালিত এক আদমশুমারির ভিত্তিতে যেসব কুর্দিকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রহীন হিসেবে নিবন্ধিত ব্যক্তিসহ সব ক্ষতিগ্রস্ত কুর্দিকে সিরীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, কুর্দিদের নববর্ষ ও বসন্ত উৎসব ‘নওরোজ’কে বেতনসহ জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে জাতিগত ও ভাষাগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দিলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

তবে সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি প্রশাসন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই ডিক্রি ‘একটি প্রথম পদক্ষেপ হলেও এটি সিরীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে না। অধিকার স্থায়ী হয় অস্থায়ী ডিক্রির মাধ্যমে নয়, বরং জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করে এমন স্থায়ী সংবিধানের মাধ্যমে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ / বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে

ফাহাদ নৈপুণ্যে ভারতকে ধসিয়ে দিল বাংলাদেশ

আব্দুস সোবহানের স্মরণে দোয়া মাহফিল

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর তল্লাশি অভিযান

শোকজের জবাব দেননি নাজমুল, পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

‘কিলার জাহিদ’ গ্রেপ্তার 

৪৭ আসন কীভাবে বণ্টন হবে, জানালেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির

একটি দল ফায়দা লুটতে মুক্তিযোদ্ধাদের হাইজ্যাক করেছে : নুরুদ্দিন অপু

নোয়াখালীর পর বিদায় ঘণ্টা বাজল মিঠুনের দলের

১০

৩৭ রানে অলআউট, ভাঙল ২৩২ বছরের পুরোনো রেকর্ড

১১

যুবকের ২ পা বিচ্ছিন্ন

১২

মা হারালেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক 

১৩

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন বাবরের স্ত্রী

১৪

চট্টগ্রামে মহাসড়ক ‘ব্লকেড’ 

১৫

কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল সিরিয়া

১৬

সার্কুলার মডেল বাস্তবায়নে কে নেতৃত্ব দিবে? রাষ্ট্র, শিল্প নাকি নাগরিক সমাজ

১৭

বসিলায় চক্ষু পরীক্ষা ক্যাম্পে গিয়ে যা বললেন ববি হাজ্জাজ

১৮

তারেক রহমানের সাথে ভুটানের রাষ্টদূতের সাক্ষাৎ

১৯

বিএনপির এক নেতাকে অব্যাহতি

২০
X