

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ/ওয়াইপিজি) হামলায় ১১ সেনা নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সিরিয়া সরকারের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আলআখবারিয়াহ টিভির খবরে বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকা প্রদেশের আল-ইয়ারুবিয়াহ এলাকায় সাত সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হাসাকার দক্ষিণে মাউন্ট আবদুল আজিজ এলাকায় দুজন এবং আলেপ্পোর পূর্বে সিরিন এলাকায় আরও দুইজন সেনা নিহত হন।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, হাসাকা গ্রামাঞ্চলের আল-ইয়ারুবিয়াহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে একটি গোলাবারুদ ঘাঁটিতে এসডিএফের চালানো ড্রোন হামলায় সাত সেনা নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই এলাকায় সেনারা তল্লাশি চালানোর সময় বিস্ফোরক ও ড্রোন অস্ত্র তৈরির একটি কারখানা আবিষ্কার করে। সেখানে ইরানে তৈরি একাধিক ড্রোন পাওয়া যায়। এসডিএফ এগুলো অস্ত্রসজ্জিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে কারখানাটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সময় এসডিএফ একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায়। এ সময় সাত সেনা নিহত ও ২০ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়।
সিরীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২০ ঘণ্টার মধ্যেই এসডিএফ বাহিনী সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবস্থানে একাধিক হামলা চালায়। এসব হামলার মধ্যে ছিল— আলেপ্পোর পূর্বে সিরিন শহরের কাছে ড্রোন হামলা, আল-সানাআ গ্রাম ও আশপাশের পাহাড় থেকে ভারী অস্ত্রের গুলিবর্ষণ, হাসাকার আল-আলিয়াহ শস্য গুদাম এবং আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের খারাব আশিক গ্রামে আর্টিলারি হামলা। এতে অন্তত দুই সেনা নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিবৃতিতে বলা হয়, হাসাকা প্রদেশের মাউন্ট আবদুল আজিজের দক্ষিণে এসডিএফ তিনটি সাঁজোয়া যান ও একাধিক সামরিক গাড়ি নিয়ে হামলা চালায়। মধ্যরাতের পর দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে আরও দুই সেনা নিহত হন এবং একটি সেনা ট্যাংক ধ্বংস হয়। এ ছাড়া সিরিনের কাছে সামরিক যান লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলায় একটি যান সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং আরেকটি পুড়ে যায় বলে জানায় সেনাবাহিনী।
মন্তব্য করুন