গাজায় গণহত্যা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পথে রয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। ইতিমধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করেছেন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান।
গেল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এই আবেদন করা হয়। আইসিসির ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে আবেদনের ঘোষণাপত্র। তালিকায় রয়েছেন- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। এ ছাড়া রয়েছেন হামাসের কয়েকজন নেতাও।
নিজেদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা ঠেকাতে জরুরি বৈঠক করেছেন নেতানিয়াহু। কীভাবে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়ানো যায়, তা খুঁজে বের করতে গেল মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির তিনজন মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সরকারি আইনজীবী একটি জরুরি বৈঠক করেছেন।
জেরুজালেমভিত্তিক প্রভাবশালী মানবাধিকার সংগঠন বেতসেলেম বলেছে, এই পরোয়ানা ইসরায়েলের দ্রুত নৈতিক অবক্ষয়েরই প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলকে এ ইঙ্গিত দিচ্ছে, দেশটি আর তার সহিংসতা, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ জবাবদিহি ছাড়া চালিয়ে যেতে পারবে না।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল। বলছে, এটি ‘নজিরবিহীন অপমান’। একই সুরে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। ইনিয়ে বিনিয়ে মূলত তেল আবিবকে রক্ষা করতে চেয়েছেন তিনি।
এখন ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয় বিবেচনা করবেন আইসিসির বিচারপতিদের একটি প্যানেল। পরোয়ানা জারি হলে আদালতের রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করতে বাধ্য থাকবে।
রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী ১২৪টি দেশের মধ্যে নেই রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে সই করেনি ইসরায়েলও। অবশ্য আইসিসি বলেছে, ফিলিস্তিন এ সংবিধিতে স্বাক্ষর করায় গাজা যুদ্ধে সংঘটিত ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার তার রয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গ্রেপ্তারের ঝুঁকি এড়িয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোতে সফর করতে পারবেন না।
দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। এমনকি এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো নিন্দাও জানায় না তারা।
মন্তব্য করুন