এ দৃশ্য কানাডার পার্লামেন্টের। যেখানে স্পিকারকে চোখ টিপে ও জিভ দেখিয়ে বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভিডিও।
জানা যায়, সম্প্রতি দেশটির হাউস অফ কমন্সে নতুন স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গ্রেগ ফার্গাস। কার্যভার গ্রহণ করার পরে তিনি প্রথম দিন পার্লামেন্টে এসেই ট্রুডোকে ‘সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী’ বলে সম্বোধন করেন।
এরপরই হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে স্পিকারকে সংশোধন করে দিয়ে ট্রুডো বলেন, ‘অতি সম্মানীয়’ হবে। হাসিমুখে এ কথা বলতে বলতেই স্পিকারের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দেন তিনি। জিভ বের করেও হাসতে দেখা যায় তাকে। ট্রুডোর এমন কার্যকলাপে হেসে ওঠেন তার দল লিবারেল পার্টির সদস্যরাও।
ভিডিও’র একপর্যায়ে দেখা যায়- ট্রুডো ও তার দলের অপর একজন দুই পাশ থেকে নতুন স্পিকারের দুই হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় বাকিরা করতালি দিয়ে এ দৃশ্য উপভোগ করছিলেন।
বিষয়টি ইতিবাচক হলেও ট্রুডোর এ কাজে ক্ষুব্ধ কানাডার নাগরিকদের একাংশ। সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বলছেন, বিষয়টি শিশুসুলভ। ব্যক্তিগত সম্পর্ক যত মজবুতই হোক না কেন, ভরা পার্লামেন্টে একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না।
JUST IN: Canadian Prime Minister Justin Trudeau gives a wink and bites his tongue at new Speaker of the House of Commons, Greg Fergus. What is going on in Canada? Fergus, who is a liberal, was elected after the previous speaker was forced to resign for praising a Nazi on the… pic.twitter.com/T6PGt3ILzF — omobaba (@adisababaoke) October 5, 2023
মঙ্গলবারই দায়িত্বভার নিয়েছেন কানাডার নতুন স্পিকার গ্রেগ ফার্গাস। দেশটির ইতিহাসে এ পদে তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ। এর আগে, হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করা এক ইউক্রেনীয়কে পার্লামেন্টে ‘সম্মান’ জানানোয় সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেন স্পিকার অ্যান্থনি রোটা। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন গ্রেগ ফার্গাস।
গত সেপ্টেম্বরে কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ, হাউস অব কমন্সে, আমন্ত্রণ জানানো হয় ৯৮ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় নাগরিক ইয়ারোস্লাভ হানকা। সে সময় তাকে ‘বীর’ হিসেবে প্রশংসা করেন স্পিকার রোটা। উঠে দাঁড়িয়েও অভ্যর্থনা জানানো হয় তাকে।
ওই ঘটনা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে। যা থেকে রক্ষা পাননি প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও। তুমুল সমালোচনার মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্যও হন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী।
জানা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর ১৪ ওয়াফেন-এসএস গ্রেনাডিয়ার ডিভিশনে কাজ করেছিলেন হানকা। এটি ছিল নাৎসি বাহিনীর অধীন একটি স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট। এই ইউনিটের বেশির ভাগ সদস্য ছিলেন ইউক্রেনীয়রা।
মন্তব্য করুন