কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারে জন্ম নেওয়া ওমর পেলেন নোবেল

২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ওমর এম. ইয়াগি। ছবি : সংগৃহীত
২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ওমর এম. ইয়াগি। ছবি : সংগৃহীত

‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ বা এমওএফ উদ্ভাবনের জন্য ২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিস্তিনি এক শরণার্থী পরিবারে জন্ম নেওয়া ওমর এম. ইয়াগি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

ওমর ইয়াগির জন্ম ১৯৬৫ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে। তার বাবা-মা ছিলেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি, যারা যুদ্ধের কারণে দেশ ছেড়ে জর্ডানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শৈশবে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই বেড়ে ওঠেন ওমর। পরিবারটি একসময় একটি ছোট রুমে গাদাগাদি করে থাকত, যেখানে পানির প্রকট সংকট ছিল। দুই সপ্তাহ পর পর কয়েক ঘণ্টার জন্য পানি পাওয়া যেত— এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার গবেষণার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবার উৎসাহে ওমর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তখন ইংরেজিতে খুব একটা দক্ষ না হলেও এক কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

বিজ্ঞানকে তিনি কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োগের পথ খুঁজেছেন। বিশেষত, পানিসংকট নিরসন এবং বায়ুমণ্ডল থেকে পানি আহরণের প্রযুক্তি বিকাশে তার অবদান অনন্য। এই লক্ষ্যে তিনি এমন এক নতুন কাঠামো তৈরি করেন, যা বায়ু থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করতে সক্ষম।

তার এই গবেষণা শুধু রসায়নের ক্ষেত্রে নয়, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে সৌদি আরব তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে। দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের গুণী বিজ্ঞানীদের সম্মান জানাতে তাকে সৌদি নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।

ওমর ইয়াগির সঙ্গে এ বছর নোবেল পেয়েছেন আরও দুই বিজ্ঞানী— জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুসুমু কিতাগাওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড রবসন। তারা তিনজনই যৌথভাবে এমওএফ প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে পদার্থ রসায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন।

নোবেল কমিটি জানায়, তাদের উদ্ভাবন এমন এক প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছে, যা গ্যাস সংরক্ষণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, পানি উৎপাদন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

দরিদ্র এক ফিলিস্তিনি পরিবারের ঘর থেকে শুরু করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি অর্জন— ওমর ইয়াগির জীবনের এই যাত্রা এখন তরুণ বিজ্ঞানীদের প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্নীতিবাজকে ভোট  দিয়ে সুশাসনের স্বপ্ন দেখাই আত্মপ্রবঞ্চনা

খেলা দেখতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় ৭ ফুটবল সমর্থকের মৃত্যু

শীত আসছে কি না, জানাল আবহাওয়া অফিস

বিএনপি-জামায়াতের তুমুল সংঘর্ষ

ধর্মেন্দ্র পাচ্ছেন মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ

হজের কার্যক্রম নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন ধর্ম উপদেষ্টা

বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

বিএনপির দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষ

একই দলের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মামা-ভাগনে

নির্বাচিত হয়ে সরকারে গেলে সবার আগে শান্তি ফেরাব : মির্জা ফখরুল

১০

বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

১১

নির্বাচনে বিএনপিকে দুটি চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে : রবিউল আলম

১২

স্বামী জামায়াত আমিরের জন্য ভোট চাইলেন ডা. আমেনা বেগম

১৩

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য

১৪

নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

১৫

প্রাণ গেল ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর

১৬

আরও ১১ নেতাকে দুঃসংবাদ দিল বিএনপি

১৭

সুখবর পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান

১৮

স্থায়ী পুনর্বাসন ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি আমিনুল হকের

১৯

রবিনের ধানের শীষেই আস্থা সাধারণ ভোটারদের 

২০
X