দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই কাঙ্ক্ষিত সময় হাতছানি দিচ্ছে। এবার মহাকাশে উড়াল দিতে যাচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক নারী। মুসলিম নারী হিসেবেও তিনি প্রথম মহাকাশে যাত্রা করবেন। তার এ মহাকাশ যাত্রার জন্য দুই দশক ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এরপর তার সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব হতে যাচ্ছে। খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মহাকাশে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া ওই নারীর নাম নামিরা সেলিম। তিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মোনাকোর যৌথ নাগরিক।
নামিরা মূলত পর্যটক হিসেবে মহাকাশে যাচ্ছেন। তিনি ছাড়াও এ যাত্রায় তার সহযোগী রয়েছেন আরও দুজন। তাদের এ যাত্রার মাধ্যমে মহাকাশে পর্যটন এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে। তাদের যাত্রার মাধ্যমে মহাকাশে বাণিজ্যিকভাবে পর্যটন শুরু হবে। ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যকার প্রথম নারী তিনি।
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এ নারী অমিরাতের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভার্জিন গ্লাক্সিক ফ্লাইটে করে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। তার এ যাত্রায় শুভকামনা জানিয়েছেন পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি নভোচারীর উদ্দেশে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেন, শুভ কামনা নামিরা সেলিম। আমি তোমার সফলতা কামনা করছি। তুমি প্রথম পাকিস্তানি নারী হিসেবে মাহাকাশ সফর করে ইতিহাস গড়তে চলেছ। নানা ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে পাকিস্তানের নারীরা পুরো জাতিকে গর্বিত করছে।
এর আগে মুসলিম নভোচারীদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তিও ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক সুলতান আল-নিয়াদি। ১৮৪ দিন মহাকাশে কাটানোর পর গত ৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর বুকে ফিরে আসেন তিনি। এর আগে তিনি মহাকাশ থেকে মক্কা মদিনার ছবি তুলে পাঠিয়েছিলেন।
চলতি বছর পবিত্র হজের সময় মহাকাশ থেকে মক্কার চিত্র কেমন ছিল মহাকাশ থেকে তার ছবি প্রকাশ করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মহাকাশচারী সুলতান আল নিয়াদি। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে তোলা সেই ছবিতে মসজিদুল হারামের কাঠামো বেশ স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল। এর আশপাশের সড়কগুলো রেখার মতো ছবিতে বিস্তৃত দেখা যায়।
পবিত্র হজের দিন এই ছবি টুইটারে প্রকাশ করে সুলতান আল নিয়াদি ক্যাপশনে লিখেন, ‘আজ পবিত্র হজের গুরুত্বপূর্ণ দিন। দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বিশ্বাস শুধুই বিশ্বাস নয়। কাজকর্মের মধ্য দিয়ে এটা প্রতিষ্ঠা পায়। এটা আমাদের সবাইকে সহানুভূতিশীল, নম্র এবং ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করে। এটা মক্কার পবিত্র স্থানগুলোর ছবি। ছবিটা আমি গতকাল তুলেছি।’
মন্তব্য করুন