কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কট্টর মুসলিম এলাকায় প্রথম হিন্দু নারী প্রার্থী

প্রথম হিন্দু নারী প্রার্থী  সাবিরা পারকাশ। ছবি : সংগৃহীত
প্রথম হিন্দু নারী প্রার্থী সাবিরা পারকাশ। ছবি : সংগৃহীত

উপমহাদেশের অস্থিতিশীল দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের আগেই আসে পাকিস্তানের নাম। পারমাণবিক শক্তিধর দেশটির রাজনীতির চাবিকাঠি মূলত নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সেনাবাহিনী। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশটির জাতীয় পরিষদ নির্বাচন। আর এতে প্রার্থী হয়েছেন সাভেরা পারকাশ নামের এক নারী। বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের গত ৭৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো হিন্দু নারী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবিরা পারকাশ। দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার বুনের জেলার ২৫ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন-ইসিপির তপশিল অনুযায়ী, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে পাকিস্তানে। সম্প্রতি এক সংশোধনীতে সাধারণ আসনে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ইসিপি।

পেশায় চিকিৎসক সাভেরা ২০২২ সালে অ্যাবোটাবাদ ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। আগে থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সাভেরা দায়িত্ব পালন করছেন পিপিপির বুনেরা জেলার মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তার বাবা সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ওম পারকাশ পিপিপির একজন সক্রিয় রাজনীতিক। তিনি ৩৫ বছর ধরে দলটির সঙ্গে রয়েছেন।

সাভেরার ভাষ্য, তিনি বাবার পদ অনুসরণ করেই রাজনীতির পথে হাঁটছেন। বুনের অঞ্চলের নারীদের উন্নয়নে কাজ করার জন্যই মূলত তিনি প্রার্থী হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উন্নয়ন খাতে এখনো নারীদের ‘অপমান-অপদস্থ’ হতে হয়। তিনি নিজের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বলেন, তাকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব থেকে তার বাবাকে অনুরোধ করা হয়েছিল।

স্থানীয় রাজনীতিক ও কওমি ওয়াতান পার্টির সদস্য সেলিম খান জানান, বুনেরা জেলা থেকে সাভেরাই প্রথম কোনো নারী, যিনি সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন। সামাজিক যেগাাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে সাবিরার পক্ষে প্রচার শুরু হয়ে গেছে। বুনের জেলার একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইমরান নোশাদ খান সোমবার জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে তিনি এবং তার অনুসারী-বন্ধুরা সাবিরা পারকাশের পক্ষে ভোট চাইবেন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মালকান্দ বিভাগের বুনের জেলা মূলত উগ্রপন্থী তেহরিক-ই-তালেবান অধ্যুষিত একটি এলাকা। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে জেলাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তেহরির-ই-তালেবান। তারপরই তারা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করে। ওই বছরের মে মাসের শেষের দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তালেবানের কাছ থেকে জেলাটি পুনরুদ্ধার করে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এমনি এমনিই ইনকিলাব হয়ে ওঠেনি : জুমা

রাতের আঁধারে মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা

বাংলাদেশকে সুখবর দিল কুয়েত

শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের অনুদানের আবেদন শুরু

শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

মান্নাকে সিসিইউতে স্থানান্তর

শীতার্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা

জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে যা বললেন আসিফ

‘রাজনীতি মানে সেবা এই দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খালেদা জিয়া’

নির্বাচিত হলে সব ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো : হাবিব

১০

ঢাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

১১

নাগরিক শোকসভায় গণমাধ্যমকর্মী লাঞ্ছিত, বিএনপি বিট রিপোর্টারদের ক্ষোভ

১২

শৈশবের শহরে ড. শাহীনার পাঁচ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

১৩

বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে মান্না

১৪

অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে আবার স্বৈরাচার ঘাড়ে চেপে বসবে : রবিন

১৫

নাটকীয় জয়ে কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী

১৬

বাংলাদেশকে নিয়ে সুখবর দিলেন খোদ ফিফা সভাপতি

১৭

খালেদা জিয়া ছাড়া দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস পরিপূর্ণ হবে না : বাসুদেব ধর

১৮

চুলায় বসানো গরম পানিতে ঝলসে প্রাণ গেল শিশুর

১৯

জবাব দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হলো নাজমুলকে

২০
X